ডেস্ক রিপোর্টার,১৮ জুলাই।।
পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমির সুরক্ষা এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্বকে সামনে রেখে তেলিয়ামুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো ৭৭তম রাজ্যভিত্তিক বনমহোৎসব। শনিবার চিত্রাঙ্গদা কলাকেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারি আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, বন দপ্তরের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা সরকারের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। তিনি প্রতীকীভাবে একটি চারা গাছ রোপণ এবং তাতে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে বনমহোৎসবের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক তথা তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়, কল্যাণপুর–প্রমোদনগর কেন্দ্রের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, প্রধান মুখ্য বনপাল আর. কে. শ্যামল, বন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের হাতে এক লক্ষ টাকা মূল্যের আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। সরকারের এই উদ্যোগ স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়িকা কল্যাণী সাহারায় বলেন, “গাছ লাগান, গাছ বাঁচান, নিজেকে বাঁচান। বনমহোৎসব শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতার আন্দোলন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য, দেশ এবং বিশ্ববাসীর কাছে পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি প্রত্যেক নাগরিককে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং লাগানো গাছের পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।
এদিন অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল রাজ্যের ৫টি অ্যান্টি ডিপ্রিডেশন ক্যাম্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমানো, দ্রুত উদ্ধার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ক্যাম্পগুলির মূল উদ্দেশ্য।

