ডেস্ক রিপোর্টার, ১লা সেপ্টেম্বর।।
রাজ্যের পাহাড়ের গ্রাম পরিষদ নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার শহরে শক্তি প্রদর্শন করলো প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির ২২ তম রাজ্য সন্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশের মাধ্যমে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এদিন আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় সারা ভারত কৃষক সভার সমাবেশ। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত কৃষক সভার কেন্দ্রীয় নেতা তথা বাংলার বামপন্থী নেতা হান্নান মোল্লা সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সভাপতি পবিত্র কর, প্রাক্তন মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
২৩- র বিধানসভার নির্বাচনের পর আগরতলায় বামেদের সবচেয়ে বড় সভা ছিলো এদিনের কৃষক সভার সমাবেশ। এদিন এই সমাবেশে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে বামপন্থী নেতা – কর্মী – সমর্থকরা। অল্প সময়ের জন্য এরা দখল নেয় তিলোত্তমা আগরতলা। নিঃসন্দেহে এডিসির ভিসি ভোটের প্রাক লগ্নে বামেদের এই শক্তি প্রদর্শনে মনোবল চাঙ্গা হবে দলীয় কর্মী – সমর্থকদের।
এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশের বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারকে একহাত নেন সারা ভারত কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের জামানায় ভারতের কৃষি ও কৃষকরা ধুঁকছে। কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে “কৃষি নীতি” তৈরী করে নি নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার। তারা বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিপতিদের স্বার্থে কৃষি নীতি তৈরী করেছে। এতে মার খাচ্ছে কৃষি ও কৃষক। দেশের কৃষকরা ফসল ফালালেও তার ক্রিম খেয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কৃষকরা কিছুই পাচ্ছে না।
রাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ত্রিপুরাতেও কৃষির বেহাল অবস্থা। এই রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ কৃষির ‘- ও জানেন না। কৃষি ক্ষেত গুলিতে কোনো জল সেচের ব্যবস্থা নেই। ক্ষেতে থাকা পামগুলি বিকল হয়ে পড়ে আছে। হুশ নেই কৃষি মন্ত্রীর।

দেশীয় কৃষকদের অবস্থা টেনে হান্নান মোল্লা বলেন, ” এই মুহূর্তে দেশে প্রতিদিন ৩৫ জন করে কৃষক আত্মহত্যা করছে। কারণ তারা ফসল ফলালেও অর্থ পাচ্ছে না। প্রতিবছর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জর্জরিত হচ্ছেন ঋণে।”
একই সুরে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে আঘাত করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের কৃষকদের নিয়ে ভাঁওতাবাজি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের কৃষকদের অবস্থা করুন।
সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সভাপতি পবিত্র কর, ,, কড়া ভাষায় কেন্দ্রের কৃষি নীতির সমালোচনা করেন। রাজ্যের কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তিনি তুলে ধরেন প্রকাশ্য সমাবেশে। বাম জমানার কৃষির সঙ্গে ভাজপা জমানার কৃষির উন্নয়নের পার্থক্যের দিকটি তিনি তুলে ধরেন।

