” শারদ উৎসব পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মায়ের আগমনীর মধ্য দিয়ে জেগে উঠে আমাদের সাহিত্য বোধ । প্রতিটি দেবদেবীর বাহন বহন করে পশু প্রেমের ঐতিহ্য। এবং নব পত্রিকা। “
উৎসবের মুখে শহরের দক্ষিণী সভাগৃহে রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় “কৃষ্টি” নামক একটি সাহিত্য পত্রের মোড়ক উন্মোচন হলো। আয়োজক “কৃষ্টি পরিষদ”।
আনুষ্ঠানিক ভাবে সাহিত্য পত্র কৃষ্টির মোড়ক উন্মোচন করেন রাজ্যের প্রথম সারির দৈনিক আজকের ফরিয়াদ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক তথা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাণিত দেবরায়।
আনুষ্ঠানিক ভাবে সাহিত্য পত্র কৃষ্টির মোড়ক উন্মোচন করেন রাজ্যের প্রথম সারির দৈনিক আজকের ফরিয়াদ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক তথা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাণিত দেবরায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক – সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অমিত ভৌমিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাহিত্য প্রেমিক তাপস কুমার দেব, আইএএস রাজেশ কুমার দাস ও কৃষ্টি পরিষদের সভাপতি কিংকর নারায়ন দত্ত।
মায়ের আগমনীর মধ্য দিয়ে জেগে উঠে আমাদের সাহিত্য বোধ ।
রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় আয়োজিত আনন্দঘন অনুষ্ঠানে কৃষ্টি সাহিত্য পত্রের মোড়ক উন্মোচন করে উদ্বোধক শাণিত দেবরায় বলেন, ” শারদ উৎসব পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মায়ের আগমনীর মধ্য দিয়ে জেগে উঠে আমাদের সাহিত্য বোধ ।প্রতিটি দেবদেবীর বাহন বহন করে পশু প্রেমের ঐতিহ্য। এবং নব পত্রিকা। তিনি বলেছেন নব পত্রিকা মানে নয়টি উদ্ভিদ। দুর্গা মায়ের সঙ্গে থাকা এই নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক । এইগুলি হলো – কদলী বা রম্ভা ( কলা গাছ ), কচু, হরিদ্রা ( হলুদ ), জয়ন্তী ,বিল্ব ( বেল ), দাড়িম্ব ( দাড়িম ), অশোক, মান ও ধান ।
শারদ উৎসব কেন্দ্র করে বাঙালির মধ্যেই প্রথম কৃষ্টি সংস্কৃতির জাগরণের জন্ম নেয়।
রাজ্যের সংবাদ জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শাণিত দেবরায়ের ভাষায়, শারদ উৎসব কেন্দ্র করে বাঙালির মধ্যেই প্রথম কৃষ্টি সংস্কৃতির জাগরণের জন্ম নেয়। এই জাগরণ থেকেই পূজার স্মরণিকা, পূজার নানান গানের সৃষ্টি। শানিত দেবরায় তাঁর ভাষণে অকৃপণ ভাবে প্রশংসা করেন কৃষ্টি পরিষদের সৃষ্টি ” কৃষ্টি ” নামক সাহিত্য পত্র ও কৃষ্টির গোটা পরিবারের।
এক সময় আগরতলা ছিলো সংস্কৃতির শহর। আজ কোথায়ও যেন হারিয়ে গিয়েছে শহরের সেই চেনা সংস্কৃতির ছন্দ। মানুষও দিন দিন সরে যাচ্ছে সংস্কৃতির বৃত্ত থেকে।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাণিত দেবরায়ের উঠে আসে ধ্রুব বাস্তব কথা। তিনি কোনো রকম ইতস্তত না করেই বলেন, ” এক সময় আগরতলা ছিলো সংস্কৃতির শহর। আজ কোথায়ও যেন হারিয়ে গিয়েছে শহরের সেই চেনা সংস্কৃতির ছন্দ। মানুষও দিন দিন সরে যাচ্ছে সংস্কৃতির বৃত্ত থেকে। অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, ” সংস্কৃতির শহর আগরতলা, আজ সংস্কৃতির অন্ধকারে!”
সংস্কৃতির অন্ধকারে নিমজ্জিত আগরতলা!( প্রতীকী ছবি)
সর্বোপরি শারদ উৎসবে সাহিত্য পত্র কৃষ্টির মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে, এই শহরের সৃজনশীল মানুষের মননে পুনরায় নতুন সৃষ্টির জাগরণের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠবে বলেই আশা করছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।