দেবীপক্ষের প্রথম দিনে বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির সংলগ্ন জমিতে বিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় যা হবে সুন্দরবন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শ্রদ্ধেয় স্বামী সত্যকামানন্দ জী মহারাজ এই নতুন প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন এবং এই নতুন পদক্ষেপকে আশীর্বাদ ও শুভ কামনা জানান।
আগরতলা, ১১ অক্টোবর।।
শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর উদ্যোগে সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত কোণে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়—’বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’-এ উৎসবের মরসুমের শুভ সূচনা করতে এবং একটি নতুন উন্নয়নমূলক ঘোষণার মাধ্যমে সেই আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তুলতে একটি বিশেষ প্রাক-পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।
শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের সিএসআর (CSR) উদ্যোগের অংশ এই ‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’ এমন এক মহিয়সী নারীর নামে উৎসর্গীকৃত, যিনি নিজের জীবনে শিক্ষার শক্তির দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং যাঁর সংস্পর্শে আসা অসংখ্য মানুষ আজও তাঁর সেই আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পান।
দেবীপক্ষের প্রথম দিনে বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির সংলগ্ন জমিতে বিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় যা হবে সুন্দরবন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শ্রদ্ধেয় স্বামী সত্যকামানন্দ জী মহারাজ এই নতুন প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন এবং এই নতুন পদক্ষেপকে আশীর্বাদ ও শুভ কামনা জানান।
এর পর বর্তমান স্কুল প্রাঙ্গণে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উৎসবের এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সেখানে পাঠরত ৪৩৫ জন শিক্ষার্থীদের হাতে পুজোর নতুন পোশাক এবং তাদের মায়েদের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য মহিলাদের হাতেও নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। সবকিছুই ছিল উৎসবের প্রকৃত ভাবধারায় উজ্জীবিত।শিক্ষার্থী এবং তাদের মায়েদের মুখের উজ্জ্বল হাসিই তাঁদের মনের অসীম আনন্দকে ফুটিয়ে তুলছিল।
প্রধান অতিথি স্বামী সত্যকামানন্দজী মহারাজ বলেন, “সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে উপস্থিত থেকে উৎসবের এই খুশির মরসুমের শুভ সূচনা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এই সুযোগে বিদ্যা মন্দিরের পরিচালনার সাথে যুক্ত সুন্দরবন বিনোদপুর শিবম সোসাইটি এবং শ্যাম সুন্দর কোম্পানি জুয়েলার্সকে অভিনন্দন জানাই, কারণ ‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’-এ তারা সত্যিই একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে।”
স্বামীজী আরও বলেন, “দুর্গাপুজোর ঠিক আগে সুন্দরবনের এই সংবেদনশীল এলাকার মা ও শিশুদের মুখে এমন চওড়া হাসি দেখতে পাওয়া আসলে মা দুর্গারই অসীম কৃপা। শিক্ষাই হলো ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এই নতুন স্কুল ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারা স্বামী বিবেকানন্দের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের ভাবনার সঙ্গেই গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
সুন্দরবন বিনোদপুর শিবম সোসাইটির সম্পাদক ডা. দিপঙ্কর মণ্ডল বলেন, “২০২৪ সালে ‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং আজ এই শুভক্ষণে আমি শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সকে আমাদের পাশে থাকার এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এর পাশাপাশি আমি সকলের কাছে অনুরোধ জানাব, দয়া করে সবাই এগিয়ে আসুন এবং সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত কোণে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করার এই নতুন ক্যাম্পাস ও মহৎ মিশনে নিজেদের সাধ্যমতো অবদান রাখুন।”
বেলা সাহার পুত্র তথা শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, “আমার মা বেলা সাহা শিক্ষার শক্তির দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন, যা তাঁকে পড়াশোনার প্রতি গভীর অনুরাগী করে তুলেছিল। মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যাতে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য তিনি সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত থাকতেন।” রূপক সাহা আরও যোগ করেন, “‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’ একটি স্বপ্নের প্রকল্প যা আমার মায়ের স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত এবং তাঁর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রতি তীব্র আগ্রহের দ্বারাই এটি পরিচালিত। আজ এই নতুন ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত স্থানটি দেখা এবং এখানকার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত।”
তাঁর কন্যা সুচরিতা রায় বলেন, “বেলা সাহা বহু মানুষের কাছেই, বিশেষ করে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক মাতৃসম ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যাঁরা তাঁর ভালোবাসা ও স্নেহ পেয়ে ধন্য হয়েছেন। মায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই স্কুলের সঙ্গে আমরা মানসিকভাবে অত্যন্ত গভীরভাবে যুক্ত এবং আমরা ‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’-কে তার নামের সার্থকতা বজায় রাখতে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উৎসবের আন্তরিক আবহে একসঙ্গে আনন্দ করে সমবেত ভোজনের মধ্য দিয়ে দিনের এই সুন্দর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

