ডেস্ক রিপোর্টার,১০ অক্টোবর।।
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের বুকে কাশফুলের দোলা, আর ভোরের বাতাসে ভেসে আসা চণ্ডীপাঠের মন্ত্রধ্বনি—বাঙালির হৃদয়ে এক অন্যরকম আবেগের নাম মহালয়া।
এ শুধু একটি তিথি নয়, এ যেন অপেক্ষার অবসান। এ যেন মায়ের আগমনের বার্তা। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক চিরন্তন আহ্বান।
ভোরের আকাশ যখন ধীরে ধীরে আলোর পরশে রাঙা হয়ে ওঠে, প্রকৃতি যখন নতুন করে সাজে শরতের স্নিগ্ধতায়, ঠিক তখনই বাঙালির মনে বেজে ওঠে এক চেনা সুর—আগমনী।
মহালয়া মানেই পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা। প্রচলিত বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, এই দিন থেকেই শুরু হয় মা দুর্গার আবাহনের প্রতীক্ষা। পিতৃপুরুষদের স্মরণ, তর্পণের পবিত্রতা আর চণ্ডীপাঠের মন্ত্রে মুখর হয়ে ওঠে বাঙালির আবেগ ও বিশ্বাস।
কিন্তু মহালয়ার তাৎপর্য কি শুধুই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ?না!
মহালয়া মানে শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া। মহালয়া মানে শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে কাটানো ভোর, মায়ের মুখে আগমনী গানের কথা আর পুজোর নতুন আনন্দে মন ভরে ওঠা।
এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়ই দুর্গোৎসবের চিরন্তন বার্তা।
আজও সমাজের নানা প্রান্তে যখন অন্যায়, অসহায়তা আর বৈষম্যের ছবি আমাদের ভাবিয়ে তোলে, তখন মা দুর্গার শক্তির আরাধনা হয়ে উঠুক সাহস, মানবিকতা ও প্রতিবাদের প্রেরণা। দেবীর কাছে প্রার্থনা হোক—মানুষের মনে জাগুক বিবেক, পরিবারে ফিরুক শান্তি, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক সম্প্রীতি।
মহালয়ার ভোর আমাদের শুধু উৎসবের ডাক শোনায় না, শোনায় নতুন করে বাঁচার, নতুন করে স্বপ্ন দেখার আহ্বান।কাশফুলের দোলায়, শিউলির সুবাসে, চণ্ডীপাঠের আবহে আজ প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে একটাই অনুভূতি—মা আসছেন!

