আগরতলা,১৪ অক্টোবর।।

বর্তমান রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি রেখেছে। ডিগ্রি কলেজগুলিতে আরো ১২৬ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার নারীদের শক্তিশালী করতে বিভিন্ন স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার আগরতলার মহিলা কলেজের মাতঙ্গিনী প্রেক্ষাগৃহে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং ইয়ুথ অর্গানাইজার পদে চাকরির নিয়োগ পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনায় মেধাবী ছাত্রীদের স্কুটি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মেধাবী ছাত্রীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদেরকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ও নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে শক্তিশালী করবে। একইভাবে ইয়ুথ অর্গানাইজারদের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে যুব সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি গড়ে উঠবে। আজ মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সিবিএসই বোর্ডের আওতায় ৩০ জন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২২ জন, এভাবে মোট ১৫২ জন মেধাবী ছাত্রীকে স্কুটি প্রদান করা হয়েছে। এজন্য আমি সকল ছাত্রীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় বলেন, আমাদের সরকার নারীদের শক্তিশালী করতে বিভিন্ন স্কিম বাস্তবায়ন করছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। স্বসহায়ক গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারীদের জীবন মান উন্নতকরণের চেষ্টা করছে সরকার। আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেই দিশায় কাজ করছেন। কারণ নারীরা শক্তিশালী হলে সমাজও শক্তিশালী হবে। এজন্য মেয়েদের শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে তোলা রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা ২০২৫ সালে শুরু হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা। যাতে কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের সুবিধে হয়। এই প্রকল্পে অর্থ দপ্তর থেকে প্রতি বছর ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রীরা অনেকটাই আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজ ১০ জন ইয়ুথ অর্গানাইজারকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়েছে। আমরা জানি যুবদের প্রতিভা বিকাশের খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ইয়ুথ অর্গানাইজারদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে হবে। যুবদের প্রকৃত অর্থে মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও মেধাবী খেলোয়াড়দের তুলে আনতে হবে।

ডাঃ সাহা বলেন, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে ফ্যাকাল্টির কিছুটা খামতি রয়েছে। সেই জায়গায় আজ ৭৪ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের হাতে নিয়োগ পত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের আগামী কর্ম জীবনের সাফল্য কামনা করছি। এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্র আরো শক্তিশালী হবে। এছাড়া আরও ১২৬ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলির জন্য ৫ জন প্রিন্সিপাল নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি রেখেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব তাপস রায়, শিক্ষা অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা, অধিকর্তা এল ডার্লং , মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্চিতা রিয়াং সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *