কৈলাসহর পুরপরিষদের কাউন্সিলর সিদ্ধার্থ রায় তাঁর ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। টমটমে  ওঠার সময় ছেলেটি পায়ে চোট পেয়েছিল। কিন্তু বিকেল ৩টা:৪৮ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় খোদ শাসক দলের কাউন্সিলরের।

কৈলাসহর ডেস্ক,২৫ জুন।।
        উন্নয়নের এক ঝাঁক দাবির মাঝেই ফের বেআব্রু সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারা। কৈলাসহরের ইন্ট্রিগেটেড আয়ুষ হাসপাতালের বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত ওপিডি খোলা থাকার কথা থাকলেও,এর আগেই বেপাত্তা চিকিৎসকরা!এমনই ছবি ধরা পড়লো ক্যামেরায়।
         বুধবার বিকেলে কৈলাসহর পুরপরিষদের কাউন্সিলর সিদ্ধার্থ রায় তাঁর ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। টমটমে  ওঠার সময় ছেলেটি পায়ে চোট পেয়েছিল। কিন্তু বিকেল ৩টা:৪৮ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় খোদ শাসক দলের কাউন্সিলরের। নিয়ম অনুযায়ী,  ওপিডি-র খোলা থাকে রোজ বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। কিন্ত তার আগেই গোটা হাসপাতাল চত্বর প্রায় শুনশান। দু-একজন স্টাফ ছাড়া দেখা মেলেনি কোনোও আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের।
        ছেলের চিকিৎসার জন্য এসে হাসপাতালের এই চরম গাফিলতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাউন্সিলর সিদ্ধার্থ রায়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন কৈলাসহর পুরপরিষদের চেয়ারপারসন চপলা রানী দেবরায় সহ অন্যান্য কাউন্সিলররা। ওপিডি-র নির্দিষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও কেন এই সময়ে কোনো চিকিৎসক  ছিলেন না, তা নিয়ে তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরাও।
     তবে শুধু চিকিৎসকের অভাবই নয়, এই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে আরও একাধিক অব্যবস্থা ও বঞ্চনার ছবি। অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত ৬ নিচু তলার কর্মী বিগত সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। ফলে চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁদের। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত সাফাই কর্মী।বর্তমান কর্মীরাই বাধ্য হয়ে করছেন হাসপাতালের সাফাইয়ের কাজ। যদিও চাকরি হারানোর ভয়ে তারা মুখ খুলতে চান নি। দিনের পর দিন এই আয়ুষ হাসপাতালের দেউলিয়াপনা নিয়ে  সরাসরি রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কাউন্সিলর সিদ্ধার্থ রায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *