মঙ্গলবার দুপুরে স্ব-ঘোষিত “কুলিন” সাংবাদিকদের  সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও ভুরিভোজে ব্রাত্য খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা সহ পরিষদীয় দলের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন না কর্তার স্ব-দলীয় অন্যান্য মন্ত্রীরা। তবে ছিলেন শরিক দল তিপ্রামথার মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এবং সবে ধন নীলমণি দলের একমাত্র বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া। রাজ্য বিধানসভায় এতো বড় আয়োজন, অথচ কর্তা কেন স্ব-দলীয় অধিকাংশ মন্ত্রী – বিধায়কদের ডাকলেন না? পর্দার আড়ালে অন্য কোনো খেলা নয়তো?

ডেস্ক রিপোর্টার,৩ ফেব্রুয়ারি।।
                    রাজ্যে হঠাৎ করে এমন কি ঘটলো? পবিত্র বিধানসভায় বেছে বেছে স্ব – ঘোষিত “কুলিন” সাংবাদিকদের সংবর্ধনা। ইদানিং কালে সংশ্লিষ্ট “কুলিন ” সাংবাদিকরা কি-ই বা অশ্ব ডিম্ব প্রসব করেছেন? যে কারণে বেছে বেছে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হলো। তবে এটা স্পষ্ট, পবিত্র বিধানসভায় কর্তার ইচ্ছাতেই সমস্ত কীর্তন হয়েছে।  বিধানসভায় অনুষ্ঠিত এই কীর্তনে কাসা – ঘণ্টা বাজিয়েছেন স্ব-ঘোষিত “কুলিন” সাংবাদিকরা। আর চেয়ে চেয়ে সাংবাদিকদের কীর্তন উপভোগ করলেন কর্তাবাবু।

কর্তাবাবু (প্রতীকী ছবি)।

আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন না কর্তার স্ব-দলীয় অন্যান্য মন্ত্রী – বিধায়করা।

বিধানসভার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে স্ব-ঘোষিত “কুলিন” সাংবাদিকদের  সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও ভুরিভোজে ব্রাত্য খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা সহ পরিষদীয় দলের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন না কর্তার স্ব-দলীয় অন্যান্য মন্ত্রীরা। তবে ছিলেন সঠিক দল তিপ্রামথার মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, এবং সবেধন নীলমণি দলের একমাত্র বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া। রাজ্য বিধানসভায় এতো বড় আয়োজন, অথচ কর্তা কেন স্ব-দলীয় অধিকাংশ মন্ত্রী – বিধায়কদের ডাকলেন না? পর্দার আড়ালে অন্য কোনো খেলা নয়তো? সাংবাদিক মহলে চাগার দিচ্ছে এই প্রশ্ন। তবে সমস্ত কিছু আড়াল করতে রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কর্তা। এবং রাজ্যপাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্তার বিধানসভায় সাংবাদিকদের ভুরিভোজ। ( প্রতীকী ছবি)

কর্তার ঘরের মন্ত্রী – বিধায়করা রাজ্য বিধানসভায় সাংবাদিক সংবর্ধনার “অকাল  পার্বণে” ডাক না পেলেও সাদরে আমন্ত্রিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা বীরজিৎ সিনহা।

তাতে কি হলো?  কর্তার ঘরের মন্ত্রী – বিধায়করা রাজ্য বিধানসভায় সাংবাদিক সংবর্ধনার “অকাল  পার্বণে” ডাক না পেলেও সাদরে আমন্ত্রিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা বীরজিৎ সিনহা। তাহলে তো বলতে হয়,কর্তাবাবু সুসম্পর্ক রেখে চলছেন দুই বিরোধী শিবির কংগ্রেস – সিপিআইএমের সঙ্গে! এটা কি  বিধানসভার কোনো রাজনৈতিক সৌজন্যতা? নাকি, দলের নেতৃত্বের উপর চাপ বৃদ্ধি করতেই মেলারমাঠ – পোস্টঅফিস চৌমুহনীর সঙ্গে কর্তাবাবুর সম্পর্কের বিস্তার?


বামগ্রেসের সঙ্গে  মধুর সম্পর্ককে প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরতেই স্ব-ঘোষিত “কুলিন” (অধিকাংশ বাম মার্কা) সাংবাদিকদের ডেকে এনে পবিত্র বিধানসভায় কীর্তন করিয়েছেন কর্তাবাবু।

।বিধানসভায় কর্তার ইচ্ছায় সাংবাদিকদের কীর্তন।( প্রতীকী ছবি)

বামগ্রেসের সঙ্গে এই মধুর সম্পর্ককে প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরতেই স্ব-ঘোষিত “কুলিন” (অধিকাংশ বাম মার্কা) সাংবাদিকদের ডেকে এনে পবিত্র বিধানসভায় কীর্তন করিয়েছেন কর্তাবাবু। সংবর্ধনা প্রাপক সাংবাদিকদের নামের তালিকা দেখে এমনটাই বলাবলি করছে রাজ্যের বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজ।

রাজ্য বিধানসভার কর্তাবাবুর হাতি মাঝ রাস্তায় ধপাস (!)

প্রশ্ন হচ্ছে, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কবিতার কর্তাবাবুর মতো ” রাজ্য বিধানসভার কর্তাবাবুর হাতি মাঝ রাস্তায় ধপাস (!) হবে না তো?

কর্তাবাবুর হাতি ধপাস! (প্রতীকী ছবি)

বা, কর্তাবাবুও চেঁচিয়ে বলবেন না তো, – “ওরে, —
হাঁথী কো ম্যায় ডর্ তা!”…।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *