ডেস্ক রিপোর্টার, ১৮ আগস্ট।।
            রামচন্দ্রঘাট আসনের তিপ্রামথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনকে চিঠি লিখে অ-উপজাতি পুরুষদের সাথে বিবাহিত উপজাতি মেয়েদের জন্য তফসিলি উপজাতি অর্থাৎ এসটি সুবিধা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
       সোমবার নয়াদিল্লির এনসিএসটি-র  চেয়ারপারসনকে পাঠানো একটি চিঠিতে, বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের অনেক অ-উপজাতি ছেলেরা সরকারি কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য এবং উপজাতি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে উপজাতি মেয়েদের বিয়ে করছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একই চিঠি তিনি ত্রিপুরার রাজ্যপাল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, উপজাতি কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী এবং উপজাতি কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছেও পাঠিয়েছেন।
         রঞ্জিত দেববর্মা দাবি করেছেন, বিয়ের পরে, অ-উপজাতি স্বামীরা বৈধ কর প্রদান এড়াতে তাদের উপজাতি স্ত্রীদের নামে সম্পত্তি এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স হস্তান্তর করে। তিনি পেট্রোল পাম্প, গ্যাস এজেন্সি, রেশন দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। যা উপজাতি কন্যাদের  নামে নিবন্ধিত করিয়ে কর ফাঁকি দিচ্ছে অ- উপজাতি যুবকরা।
  বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন অ-উপজাতি যুবকরা এডিসি এলাকায়  তাদের উপজাতি স্ত্রীদের নামে জমি ক্রয় করে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ভর্তুকির অযৌক্তিক সুযোগ নিচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের অভ্যাসের ফলে জমির কর পরিশোধ না করেই জমি কেনা, এডিসি এলাকার অধীনে থাকা বন উজাড় করে  ইটভাটা, বাগান এবং রাবার বাগানের মতো অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত করছে অ- উপজাতি যুবকরা।
      রঞ্জিত তার চিঠিতে লিখেছেন, উপজাতি মেয়েদের সাথে  বিয়ে করে অ- উপজাতি যুবকরা সরকারি কর থেকে অব্যাহতি পায়। তাই এই ধরনের বিয়ে বন্ধ করার পক্ষে রঞ্জিত। তার দাবী,ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই এই ধরনের বিয়ে সম্পন্ন করা প্রার্থীদের সম্পূর্ণ ভাবে এসটি সুযোগ-সুবিধা বাতিল করার জন্য দাবী জানিয়েছে তিপ্রামথার এই বিধায়ক।
      রঞ্জিত দেববর্মার এই চিঠি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন, রঞ্জিত দেববর্মার এই চিঠি সম্পূর্ণরূপে সাম্প্রদায়িক এবং উপজাতি মহিলাদের ব্যক্তিগত জীবন ও অধিকারকে খর্ব করার নগ্ন প্রক্রিয়া।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *