জাতীয় রাজনীতিতে যখন মেরুকরণ তীব্র, তখন কেরালার বিধানসভা নির্বাচন কি ভারতের বামপন্থীদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে? আগরতলা থেকে দিল্লি—এই নির্বাচনী লড়াইয়ের রেশ কতটা পৌঁছাবে? এটাই এখন দেশীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু।

ডেস্ক রিপোর্টার, ১ মে।।
       ভারতে বর্তমানে বামপন্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একসময় পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং কেরালা—এই তিন রাজ্যে শক্ত হাতে শাসন চালানো বামপন্থীরা এখন মূলত কেরালাতেই সীমাবদ্ধ।
এছাড়া সংসদীয় রাজনীতিতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বামপন্থীদের শক্তি আগের চেয়ে অনেক হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতি বজায় রাখতে তারা চ্যালেঞ্জের মুখে বামপন্থীরা।তাছাড়া সাংগঠনিক অবস্থার দিকে নজর দিলে দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চললেও, তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে বাম নেতৃত্ব।


কেরালা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এলডিএফের-র জয় বা পরাজয় ভারতের রাজনীতির জন্য এক বড় বার্তা। যদি এলডিএফ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরে করে অর্থাৎ হ্যাট্রিক  করে, তবে তা হবে ভারতীয় বাম রাজনীতির  এক ঐতিহাসিক পুনর্জন্ম। এটি প্রমাণ করবে যে জনকল্যাণমুখী মডেল দিয়ে উগ্র দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদকে রোখা সম্ভব।আর যদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ক্ষমতায় ফেরে, তবে জাতীয় স্তরে বামপন্থীদের দরকষাকষির ক্ষমতা আরও কমে যাবে এবং বিরোধী জোটে তাদের প্রাসঙ্গিকতা পড়বে ঘোর সংকটে।


ত্রিপুরার বামপন্থীদের কাছে কেরালা হলো ‘আশার আলোকবর্তিকা’। কেরালায় জয় মানে ত্রিপুরার নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হওয়া। এটি বার্তা দেবে যে বিজেপি-র বিরুদ্ধেও বিকল্প ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি জয়ী হতে পারে।আর কেরালায় হারলে ত্রিপুরার বাম সংগঠন আরও রক্ষণাত্মক হয়ে পড়তে পারে এবং বিরোধী ভোট আরও বেশি বিজেপি,তিপ্রামথা বা কংগ্রেসের দিকে ঝোঁকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই ত্রিপুরার রাজনৈতিক সমীকরণে কেরালার লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘুরে দাঁড়াতে বামপন্থীদের কিছু নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।প্রথমতঃ, প্রবীণ নেতৃত্বের বদলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লড়াকু তরুণদের সামনে আনা। দ্বিতীয়ত,কেবল তত্ত্ব নির্ভর রাজনীতি নয়, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সরব হওয়া।তৃতীয়ত,অডিও-ভিজ্যুয়াল ও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনমানসে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা।চতুর্থত,কেরালার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মডেলকে সারা ভারতের সামনে ‘সফল বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরা ইত্যাদি।


আগামী ৪ মে কেরালার রায় যা-ই হোক, ভারতের বহুত্ববাদী রাজনীতিতে বামপন্থীদের উপস্থিতি যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষা করে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, লাল দুর্গ কি নিজের মাটি রক্ষা করতে পারবে, নাকি দেশীয় রাজনীতির মানচিত্র থেকে আরও সংকুচিত হবে বামপন্থা?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *