রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

                         #সমীরণ রায়#
                       _____________

ঢাকা, ৫ এপ্রিল।।
    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বলানি সংকট দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। সঙ্গত কারণে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ সরকার। তাই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মডেল পর্যালোচনা করে একটি বাজার কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে। দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের প্রচলিত মডেল পর্যালোচনা করে একটি আদর্শ মডেল তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সম্প্রতি গবেষণা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজকে (বিআইডিএস)। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরো কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভোজ্যতেলের দামের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পণ্যটির দাম মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা হয় এবং কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তা সমন্বয় করা হচ্ছে। চলতি পঞ্জিকা বছরে তিনবার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারক ও বিপণনকারীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলেও উত্তরে তুলে ধলা হয়। জ্বালানিসহ ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীদের ব্যাংকিং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সংসদকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ভুটানের সঙ্গে পিটিএ, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি:
কুষ্টিয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের প্রশ্নের জবাবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির তথ্যও দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর সই হওয়া এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে এবং ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ১৯৭২ সালে সই হয়, যা পরে সংশোধন ও পরিমার্জনের পর ২০১৫ সালে নবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট এবং এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে স্বল্পোন্নত দেশের জন্য প্রদত্ত শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে তামাক ও মদজাতীয় ২৫টি পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে তুলা, সুতা, পেট্রোলিয়াম ও জ্বালানি পণ্য, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি ও শিল্প সরঞ্জাম, জৈব ও অজৈব রাসায়নিক দ্রব্য, খাদ্য ও কৃষিপণ্য, যানবাহন ও পরিবহন সরঞ্জাম, লোহা ও ইস্পাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং সার।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও তেল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, মাছ ও সামুদ্রিক খাবার ও ঠান্ডা পানীয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *