বুধবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিলটি পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়ে বলেন, আমরা মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট আগে বিলটি হাতে পেয়েছি। আমাদের এটি বিস্তারিত বোঝার জন্য সময় দেওয়া উচিত।
#সমীরণ রায়#
_______________
ঢাকা,৮ এপ্রিল।।
বাংলাদেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বিলটি পাস হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
বুধবার জাতীয় সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশটিও বিল হিসেবে পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরআগে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তুলে ধরেন এনসিপি’র সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও স্বরাষ্টমন্ত্রী।
বুধবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিলটি পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়ে বলেন, আমরা মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট আগে বিলটি হাতে পেয়েছি। আমাদের এটি বিস্তারিত বোঝার জন্য সময় দেওয়া উচিত।
জবাবে স্পিকার জানান, বিলটি পাসের জন্য নির্ধারিত চূড়ান্ত পর্যায়ে এখন আর নতুন করে আপত্তি জানানোর বা সংশোধনী দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের জন্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলেন।
এ সময় বিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যার জন্য দায়ী সংগঠনগুলোর বিচার নিশ্চিত করতেই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এই ইস্যুতে জনমত তৈরি করেছিল। এই আইনের মাধ্যমেই তাদের (আওয়ামী লীগের) নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। তারপরও বিলে যদি কোনো পক্ষের আপত্তি থাকে, তবে তা সংশোধনী প্রক্রিয়ার প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপেই জানানো উচিত ছিল, তখন আলোচনার সুযোগ ছিল।
এরপর স্পিকার এ বিষয়ে নিজের রুলিং দেন এবং পুনরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিলটি পাস হয়। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি। নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। সেই সংশোধনীসহ বিলটি সংসদে পাস হয়েছে। শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে আরো বেগ পেতে হবে। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কার্যকর ছিল। সংসদের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করে।

