ক্যান্সারে আক্রান্ত নিহার রঞ্জন আচার্যকে প্রতি ২১ দিন অন্তর প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকার একটি জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশন নিতে হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি নিজের পৈতৃক ভিটে ও জোতজমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে তাতে বাধ সাধে স্থানীয় জমিদস্যুরা।
ডেস্ক রিপোর্টার,২১ জুন।। মানুষ যেন আজ নর পিশাচের চেয়েও অধম! সমাজে তাদের ভিন্ন ভিন্ন রূপ। এই বাহারি রূপের অন্যতম পোশাকি নাম জমিদস্যু। এই জমিদস্যুদের রক্তচক্ষুতে পড়েছেন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ক্যান্সার আক্রান্ত প্রবীণ নাগরিক। তিনি নিজের জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কারণ তাঁর জমি দখল করে রেখেছে বিজেপি নামধারী জমিদস্যুরা। ঘটনা শহরের বড়জলা বৈরাগী টিলা এলাকায়।
“ক্যান্সারে আক্রান্ত নিহার রঞ্জন আচার্যকে প্রতি ২১ দিন অন্তর প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকার একটি জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশন নিতে হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি নিজের পৈতৃক ভিটে ও জোতজমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে তাতে বাধ সাধে স্থানীয় জমিদস্যুরা।” বলেছেন নিহার রঞ্জন।
নিহার রঞ্জনের কথায়, স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ দেবনাথ, সত্যজিৎ দাস, বিজেপির বুথ সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী তাঁকে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে তাঁদের কাছেই জমি বিক্রি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। শুধু তাই নয়, নিহার রঞ্জনের জায়গাতে বল পূর্বক বেড়া দিয়ে দেয় তিন জমি দস্যু।
কোথায় রাজ্য প্রশাসন? জমির বৈধ পর্চা ও প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ক্যান্সার আক্রান্ত প্রবীণ নাগরিক নিহার রঞ্জন নিজের সম্পত্তি বিক্রি করতে পারছেন না। এটা লজ্জা। গোটা প্রশাসনের দন্ডমুন্ডের কর্তাদের।গোটা ঘটনা জানিয়ে নিহার রঞ্জন এনসিসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি, এনসিসি থানার খাকি উর্দি ওয়ালারা অসহায় নিহার রঞ্জনের পাশে দাঁড়ায় নি। বরং জমিদস্যুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
প্রবীণ নাগরিক নিহার রঞ্জন আচার্যের বক্তব্য, চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হলেও নানা ধরনের হুমকি ও চাপের কারণে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাড়া করছে অজানা আতঙ্ক। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়,রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্যান্সার আক্রান্ত এই অসহায় বৃদ্ধ নাগরিক। রাজ্যের নিষ্কলুষ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা কি অসুস্থ নিহার রঞ্জন আচার্যের করুন আর্তি শুনবেন? করবেন একটা বিহিত। চেয়ে আছে রাজ্যের মানুষ।