ডেস্ক রিপোর্টার, ১৫ আগস্ট।।
         বিধায়িকা মিনা সরকারের বেলেল্লাপনায় তুষের আগুনের মতো জ্বলছে বাধারঘাট বিধানসভা! প্রয়াত দাদা দিলীপ সরকারের( প্রাক্তন বিধায়ক) রাজনৈতিক উর্বর ভূমিকে কুলষিত করছেন মিনা। অভিযোগ, বাধারঘাটের নিষ্ঠাবান বিজেপি কর্মীদের।
           সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন বাধারঘাট বিধানসভার চারিপাড়া অঞ্চলের লোকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ দেব চৌধুরী। “অসুস্থতার কারণে তিনি বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে একবারের জন্যও দেখতে যান নি “হঠাৎ বিধায়িকা” মিনা সরকার। মৃত্যুর পরও যান নি শেষ বারের জন্য সুভাষ দেব চৌধুরীকে দেখতে। এবং পূরণ করেন নি লোকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার শেষ ইচ্ছা।” এই বক্তব্য বিজেপির কর্মীদের।
          জীবদ্দশায় সুভাষ দেব চৌধুরীকে চূড়ান্ত অপমান করেছেন মিনা ও তাঁর দালাল চক্রের পান্ডারা। মিনা সরকার বিধায়িকা হয়ে লোকনাথ মন্দিরের কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সুভাষ দেব চৌধুরীকে সরিয়ে দেন। নিজেই হয়ে যান চেয়ারম্যান। তাতে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলেন সুভাষ দেব চৌধুরী।
      


স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, ১৯৯২ সালে সুভাষ  দেব প্রায় একক প্রচেষ্টায় চারিপাড়াতে লোকনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজীবন তিনি ছিলেন “অনূঢ়”( যে পুরুষ বিয়ে করেন নি)। সাত্ত্বিক সুভাষ দেব চৌধুরী নিজেকে আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে মনোনিবেশ করেছিলেন। তার আখড়া ছিল চারিপাড়া লোকনাথ মন্দির। ঘুরিয়ে বললে,  তিনি পালন করতেন ব্রহ্মচর্য । পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির ঠিকাদার। জীবনের আয়ের একটা বড় অংশ দিয়েছেন লোকনাথ মন্দিরে। এবং তিনি  দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকার দুঃস্থ মানুষ জনের পাশে। প্রয়াত বিধায়ক দিলীপ সরকারের ( বর্তমান বিধায়িকার দাদা) খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন সুভাষ দেব চৌধুরী।
            লোকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ দেব চৌধুরী বরাবর চেয়েছিলেন আধ্যাত্মিকতার পিঠস্থান লোকনাথ মন্দিরকে নোংরা রাজনীতির পরিমণ্ডলের বাইরে রাখতে। দিলীপ সরকার বিধায়ক থাকাকালীনও লোকনাথ মন্দিরে রাজনীতি প্রবেশের সাহস পায়নি। প্রয়াত বিধায়ক দিলীপ সরকারও তাঁর লোকজনকে এই প্রশ্রয় দেননি।
     স্থানীয় বিজেপির লোকজনের বক্তব্য, প্রয়াত দাদা দিলীপ সরকারের ইচ্ছাকে ভূলুণ্ঠিত করে ক্ষমতা লোভী বোন মিনা সরকার লোকনাথ মন্দিরে খুলে বসেন রাজনীতির “আড়ত”। তাতে প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিলেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ দেব চৌধুরী। কিন্তু তিনি সমস্ত দুঃখ ও বেদনা বুকে চাপা দিয়ে বাবা লোকনাথের সেবায় নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলেন।
  সাত্ত্বিক  পুরুষ  সুভাষ দেব চৌধুরীর ইচ্ছা ছিলো, “তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ লোকনাথ মন্দিরের এক কোণে সমাধি দেওয়ার জন্য। ” দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি,  মিনা সরকার ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রদীপ দেবনাথ প্রয়াত সুভাষ দেব চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা পূরণের তীব্র বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত প্রয়াত সুভাষ দেব চৌধুরীর শেষ ইচ্ছাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে তাঁর দেহ দাহ করা হয় বটতলা শ্মশানে। বিধায়িকা মিনা সরকারের এই জঘন্য নোংরা রাজনীতিতে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মতো লাভা নির্গত হচ্ছে বাধারঘাট বিজেপির অন্দরে। শেষ পরিণতি কি হয়? তা বলা  মুশকিল। এমনকি খোদ বিধায়িকা মিনা সরকারের উপর আঁচড়ে পড়তে পারে বিজেপির কর্মীদের রুদ্ররোষ। অপেক্ষা শুধুই সময়ের। দাবি, গোটা বাঁধারঘাট অঞ্চলের বিজেপির দুর্দিনের নেতা – কর্মী – সমর্থকদের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *