ডেস্ক রিপোর্টার , ১৩ আগস্ট।।
প্রদ্যুৎ কিশোরের তিপ্রামথা পরিচালিত এডিসিতে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি। এই অভিযোগ বারবার তুলে ছিলো শাসক জোটের বড় শরিক বিজেপি এবং প্রধান বিরোধি দল সিপিআইএম। এবার এডিসির চাকরি সংক্রান্ত দুইটি জনস্বার্থ মামলায় ত্রিপুরা উচ্চ আদালতে বড় ধাক্কা খেলো এডিসি প্রশাসন।
সম্প্রতি এডিসিতে বিভিন্ন দপ্তরে ২৫০ জনের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে নিয়োগের আগে কোনো রকম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। চাকরির প্রার্থীদের নেওয়া হয়নি কোনো ইন্টারভিউ। অর্থাৎ অবৈধভাবে বাঁকা পথে সম্পন্ন করা হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই ঘটনার পর চাকরি প্রত্যাশীরা ত্রিপুরা উচ্চ আদালতে দুই দুইটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের কোর্টে চাকরি সংক্রান্ত এই মামলায় মুখ পুড়ে এডিসি প্রশাসনের। জানিয়েছেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন।
আইনজীবী জানিয়েছেন দুটি জনস্বার্থ মামলায় ১৫ জন চাকরি প্রাপকের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া হয়েছিল আদালতে। তারা কোনরকম ইন্টারভিউ না দিয়েই পেয়েছিল নিয়োগ পত্র। এই সমস্ত চাকরিগুলি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছিলেন মামলাকারীরা। এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়েছিল আদালতে। আদালত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারে, কোনরকম নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই এডিসি প্রশাসন চাকরি দিয়েছিল।
আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মনের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। ইতিমধ্যেই আদালতে হালফনামা জমা করে এডিসি প্রশাসন। এবং তারা দাবি করে নানান কারণে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক নিয়ম-নীতি গুলি তারা মান্যতা দিতে পারেনি। তাদের জমা করা হলফনামায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি উচ্চ আদালত।এডিসি প্রশাসনের এই হলফনামা থেকে আদালতের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় চাকরি দুর্নীতির উপাখ্যান। এদিন প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চ এডিসি প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, অবৈধ উপায়ে চাকরি পাওয়া ১৫ জন প্রার্থী বেতন প্রদান বন্ধ করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।
তবে পুনরায় এডিসি প্রশাসনের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিয়েছে আদালত। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত হলফনামা দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হলেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।আদালতের বক্তব্য, ইতিমধ্যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে এবং সেই হলফনামাতেই মামলাকারীদের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তিও প্রতিফলিত হয়েছে।

