Oplus_16908288

ডেস্ক রিপোর্টার, ১৬ আগস্ট।
    ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত যখন স্বাধীন হয়, সেদিন কিন্তু দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা ওঠেনি! স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল অন্য এক প্রাঙ্গণ। ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম জনসমক্ষে ভারতের তেরঙ্গা উড়েছিল ইন্ডিয়া গেটের কাছের প্রিন্সেস পার্কে।ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সেখানেই স্বাধীন দেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির নথিতেও এই তথ্যের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
তবে লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল ঠিক তার একদিন পর, ১৬ আগস্ট। সেদিন দিল্লির এই ঐতিহাসিক দুর্গের প্রাচীর থেকে নেহরু জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন এবং জাতির উদ্দেশে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন। প্রশ্ন জাগে, প্রথম পতাকা উত্তোলন অন্য প্রাঙ্গনে হলেও, লালকেল্লাই কেন হয়ে উঠল স্বাধীন ভারতের সার্বভৌমত্বের স্থায়ী মঞ্চ?এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে লালকেল্লার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসে।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় মেরঠ থেকে আসা বিপ্লবী সেনারা পৌঁছেছিলেন দিল্লির লালকেল্লায়।মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর রাজনৈতিক শক্তি হারিয়ে থাকলেও, সাধারণ মানুষের চোখে তিনি ছিলেন বৈধ শাসনের প্রতীক।
বিদ্রোহীরা তাঁকেই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব সঁপে দেন।সিপাহী বিদ্রোহ দমনের পর ইংরেজ শাসক বুঝেতে পেরেছিলেন এই দুর্গের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা। তাঁরা বাহাদুর শাহ জাফরকে বন্দি করে লালকেল্লাতেই বিচার সভা বসায় এবং তাঁকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করে। শুধু তা-ই নয়, লালকেল্লার অভ্যন্তরীণ স্থাপত্যের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করে সেটিকে ব্রিটিশ সেনার আস্তানায় পরিণত করা হয়। দিল্লির শাসন ক্ষমতা দখলের মূল প্রতীক হয়ে ওঠে এই দুর্গ।
এরপর চার দশক পর সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের ‘দিল্লি চলো’ ডাক পুনরায় সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বন্দি আজাদ হিন্দ বাহিনীর তিন বীর সেনা— শাহ নওয়াজ খান, প্রেম কুমার সহগল এবং গুরবক্স সিং ধিলোঁ-র বিচারসভা বসে এই লালকেল্লাতেই।লালকেল্লা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতিদের ঐতিহাসিক বিচারসভা কেবল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের শিখাকে আরও প্রজ্বলিত করেনি, বরং ব্রিটিশ শাসনের পতনের প্রক্রিয়াকেও দ্রুততর করেছিল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *