“বড়জল বিজেপির সাংগঠনিক কঙ্কালকে মাংস ভারট করে সুস্থ সবল করার জন্য রাজীব ঘোষের উপর দায়িত্ব সপে দেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেবরায়।“
“বড়জলার পথে আজ মানুষের ঢল, পদ্মের পতাকায় উঠেছে কলরোল। পাড়া থেকে পল্লী, রাজপথের ধারে,জনজোয়ার নামে আজ ঘরে ঘরে।”
বিগত কিছু দিন ধরেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক বোম্বিং করে চলছে প্রধান বিরোধি দল সিপিআইএম। পিছিয়ে নেই বিরোধী দল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তৈরি হয়েছে তিক্ততা। পরিস্থিতি যখন ঘোলাটে হওয়ার আভাস দিচ্ছে, ঠিক তখনই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ ঘোষণা দিয়েছেন, “জনস্বার্থে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছে দলের নেতা – কর্মী – সমর্থকরা। মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষও দিয়েছেন একই বার্তা।
রাজ্য সরকারের একশ শতাংশ বিদ্যুৎ মাশুলের ভর্তুকির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার বড়জলা মণ্ডলের উদ্যোগে বের হয় এক বিশাল ধন্যবাদ র্যালি। নেতৃত্বের ছিলেন মন্ডলের জনপ্রিয় নেতা তথ্য মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ।
“হাতে হাতে পতাকা, চোখে নতুন স্বপ্ন, উন্নয়নের আশায় মানুষের মিলন। কেউ এসেছে দূর থেকে, কেউ নিজের পাড়া,এক সুরে মুখরিত যেন বড়জলার ধারা।”
বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির এই ধন্যবাদ র্যালি চমকে দিয়েছে কৃষ্ণনগর কুশাভাউ ভবনের দণ্ডমুন্ডের কর্তাদের। বড়জলা কেন্দ্রটি সিপিআইএমের দখলে। অতি সম্প্রতি কালেও বড়জলাতে বিজেপির সাংগঠনিক মাটি পায়ের তলা থেকে খসে খসে পড়েছিল নিয়মিত। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও প্রদেশ সভাপতির এক সিদ্ধান্তে বড়জলাতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিজেপির সংগঠন। স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা রাজীব ঘোষ মন্ডল সভাপতির চেয়ারে বসতেই বড়জলাতে বিজেপির সংগঠনের আমূল পরিবর্তন ঘটে। জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপির কর্মীরাই।
বড়জলা বিজেপির নারী শক্তি
আর তার ফলাফল হাতে নাতে পাওয়া গিয়েছে শনিবারের ধন্যবাদ র্যালিতে। তার আঁচ পেয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। র্যালিতে দাঁড়িয়ে বামেদের দিকে আঙুল তুলে মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ সাবধানী বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বামেরা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় নি। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর মানুষের কাছে সবই স্পষ্ট হয়ে যায়।
রাজীব ঘোষ, মণ্ডল সভাপতি, বড়জলা
অভিযোগ, এই কেন্দ্রের বিজেপির সংগঠনকে কফিনে পুঁতে দেওয়ার পেছনে দায়ী ছিলেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ দাস।
২০১৮ সালে বিজেপি বড়জলা দখল করেছিল। কিন্তু ২৩ সালে সিপিআইএমের দখলে চলে যায়। অভিযোগ, এই কেন্দ্রের বিজেপির সংগঠনকে কফিনে পুঁতে দেওয়ার পেছনে দায়ী ছিলেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ দাস। তাঁর জমানাতেই বড়জলা কেন্দ্রে মাথা চাড়া দিয়েছিল অপরাধ জগতের হায়নারা। তারা দিলীপ দাসের আস্কারায় কুলষিত করেছিল বিজেপিকে। তার ফল অবশ্যই বিজেপিকে ভোগ করতে হয়েছে ২০২৩ সালে। এরপর থেকে বড়জলাতে বিজেপির সংগঠন দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে যায়। বেরিয়ে আসে সংগঠনের কঙ্কাল সার।
চিকিৎসক দিলীপ দাস,( প্রাক্তন বিধায়ক)
বড়জল বিজেপির সাংগঠনিক কঙ্কালকে মাংস ভারট করে সুস্থ সবল করার জন্য রাজীব ঘোষের উপর দায়িত্ব সপে দেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেবরায়। তাই তো আজ বড়জলা মন্ডলের বিজেপির কর্মীরা কবির ভাষায় বলতে পারেন—–
“বুথে বুথে জাগে আজ প্রত্যয়ের গান, জনতার শক্তিই বিজেপির প্রাণ। ঐক্যের বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলে সারি,আশার আলোয় জাগে বড়জলা ভারী।”
এদিনের ধন্যবাদ র্যালিতে জনতার শক্তি দেখে রাজীব ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ” বড়জলাতে আর সিপিআইএমের বিভ্রান্তি চলবে না। এই কেন্দ্র থেকে হারিয়ে যাবে কমিউনিস্টরাও।মিছিলের শেষে রাজীবের নেতৃত্বে হয় বিজেপির জনসভা। এই সভায় উপস্থিত লোকজনের সংখ্যা ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিজেপির কর্মীদের বক্তব্য, ১৮ সালের পর বড়জলাতে এতো বড় জনসভা করতে পারে নি পদ্ম শিবির।
তাই তো ভাজপার কর্মীরা বলছেন–
“আজকের এই ভিড় শুধু ভিড় নয়, আগামীর স্বপ্নের দৃঢ় পরিচয়। বড়জলার মাটিতে উঠেছে যে ঢেউ—জনতার জোয়ারে বয়ে আসছে নতুন দিনের স্রোত।”