ডেস্ক রিপোর্টার, ২১ আগস্ট।।
     সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় বর্ষাকালীন অধিবেশনে বহু চর্চিত ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ (Delimitation) বিল পেশ করেনি কেন্দ্র। কিন্তু অধিবেশন শেষ হওয়ার পরদিনই চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনার পারদ চড়িয়েছে। তবে এই বৈঠকের চেয়েও দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এখন বেশি নজর কাড়ছে তামিল সুপারস্টার তথা টিভিকে প্রধান ‘থলপতি’ বিজয়ের ভূমিকা।
বৃহস্পতিবার শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজয়।খবর, সেই বৈঠকেই বিজয় দাবি করেছেন আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে গ্যারান্টি দিতে হবে।কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের হার যেন কমে না যায়, সেই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে কেন্দ্রকে।বিজয় মনে করিয়ে দিয়েছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারাটা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের কৃতিত্ব, তার জন্য প্রতিনিধিত্ব কমানো যায় না।
    মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই মন্তব্যের পরই তামিল রাজনীতিতে জোর চর্চা। তাহলে কি এবার ইউ টার্ন নিয়ে আসন পুনর্বিন্যাসে সায় দিতে চলেছেন বিজয়?এই নিয়ে আসরে নেমেছে ডিএমকে-এডিএমকে। স্ট্যালিনের দলের খোঁচা, বিজয় তো ক্ষণে ক্ষণে অবস্থান বদলাচ্ছেন। এবার কি তাহলে রাহুল গান্ধী ‘গদ্দার’ তকমা দেবেন বিজয়কে? এআইডিএমকের তোপ, কেন্দ্র যা বলছে বিজয়ও এখন সেটাই বলছেন। এমন এদিক-ওদিক করার হলে ঘটা করে প্রস্তাব পাশ করানোর কী দরকার ছিল? উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই বিজয়ের উদ্যোগে তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হয় বিশেষ প্রস্তাব। আসন পুনর্বিন্যাস হবে না, ৫৪৩ আসন বজায় থাকবে লোকসভায়-এই বিষয়গুলিই প্রস্তাবের মূল বক্তব্য।
      রাজনৈতিক মহলের মতে,থলপতি বিজয়ের এই রাজনৈতিক সমীকরণ তামিলনাড়ুর আগামী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত বিজয় কি বিজেপি বিরোধিতার মূলস্রোতে থাকবেন, নাকি তামিল রাজনীতির তৃতীয় মেরু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন—সেদিকেই এখন নজর জাতীয় রাজনীতির।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *