রাতের আধারে পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন টিংকু ভট্টাচার্য্যের এক নিকট আত্মীয়’ র বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সিমেন্ট বোঝাই লরি। স্থানীয় লোকজন গাড়ি সহ চালককে আটক করেছিলো। চালক কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি।
ডেস্ক রিপোর্টার ,৩০ আগস্ট।।
পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন টিংকু ভট্টাচার্য’ র সিমেন্ট কেলেঙ্কারি নিয়ে উত্তাল খোয়াইয়ের রাজনীতি। লেজে গোবরে শাসক দল বিজেপি। সিমেন্ট কেলেঙ্কারিকে ছাই চাপা দিতে মাঠে নেমেছেন খোদ খোয়াই ব্লকের বিডিও অনিরুদ্ধ দাস। তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত হাস্যকর ও সন্দেহ জনক বলে মনে করছেন স্থানীয় জনগণ।
রাতের আধারে পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন টিংকু ভট্টাচার্য্যের এক নিকট আত্মীয়’ র বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সিমেন্ট বোঝাই লরি। স্থানীয় লোকজন গাড়ি সহ চালককে আটক করেছিলো। চালক কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই চাপের মুখে পড়েন পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন
টিংকু ভট্টাচার্য সহ শাসক দল। কিন্তু টিঙ্কুর মুখে কোনো বক্তব্য ছিলো না। অভিযোগ, শাসক দলের নেত্রীর সিমেন্ট কেলেঙ্কারি ছাই চাপা দিয়ে মাঠে অবতীর্ণ হন খোদ খোয়াই আর ডি ব্লকের বিডিও অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানিয়েছেন, সিমেন্ট চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১৯ আগস্ট। খবরের সত্যতা যাচাই করতে তার কয়েকটা দিন কেটে যায়। এরপর তিনি ২৩ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এবং ২৪ আগস্ট কমিটি তাঁকে রিপোর্ট দেয়।

বিডিও অনিরুদ্ধ দাসের যুক্তি, গাড়িতে থাকা সিমেন্ট গুলি দুইটি কাজের সাইট থেকে আনা হয়েছে। সবগুলি সিমেন্টের বস্তা নষ্ট। অর্থাৎ সিমেন্ট গুলি শক্ত হয়ে গিয়েছে। এই সিমেন্ট কোনো নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বিডিও- র এই যুক্তি জনমনে যথেষ্ট হাস্যকর।
স্থানীয় সিপিআইএম বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি সিমেন্ট পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন টিংকু ভট্টাচার্য্যের বাড়ির বিল্ডিং নির্মাণে ব্যবহার করার জন্য নেওয়া হয়েছিল । এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিডিও অনিরুদ্ধ দাস সাফ জানিয়ে দেন, ” এটা অসম্ভব। টিংকু ভট্টাচার্য্যের বাড়িতে সিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সঠিক নয়।
খোয়াই সিমেন্ট চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত খোয়াই পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান টিংকু ভট্টাচার্য’ র কোনো শাস্তি হলো না। এবং হবেও না।
বরং তার হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সাফাই গাইলেন খোয়াই জেলার বিজেপির সভাপতি সমীর দাস।
অবাক করার মতো ঘটনা,সিমেন্ট চুরির ইস্যুতে বিচার চেয়ে রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়,
খোয়াই ও আশারাম বাড়ি মণ্ডল সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে এলাকার লোকজন। সরকারি সিমেন্ট বোঝাই করা গাড়িও আটক করেছিলো বাসিন্দার। তার জলজ্যান্ত প্রমাণও রয়েছে ।তারপরও নির্লজ্জের মতো পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান টিংকু ভট্টাচার্যকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে জ্বলন্ত অপরাধকে চাপা দিয়েছেন সমীর দাস। তাতে কি স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে জেলা সভাপতি সমীর দাসের? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকার জনমনে। গোটা খোয়াই জুড়ে উঠছে ছিঃ ছিঃ রব।

