রাজ্যের বহু মন্ডলেই বিজেপির এমন সাংগঠনিক শক্তির চেহারা কমই দেখা যায়। ঊষা বাজার শনিতলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় একশতে একশ নম্বর পেয়েছেন মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ ও তার গোটা টিম। তার আভাস দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

ডেস্ক রিপোর্টার, ৬ সেপ্টেম্বর।।
“বড়জলার মরা গাঙে, জোয়ার এলো আজ,
পদ্মফুলের স্রোতে যেন মুখর হলো রাজ।
গলি থেকে রাজপথ জুড়ে, মানুষেরই ঢল,
বদলের আশায় উঠছে আবার জনতারই কলরোল।”


  দীর্ঘ বছর পর ঐতিহাসিক জনসভার সাক্ষী থাকলো বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের ঊষাবাজারের শনিতলা মাঠ। এই মাঠ ও তার চারপাশ ছিলো শুধুই গেরুয়াময়। এলাকার গলি – রাজপথে পত পত করছে পতাকা। গত বছর পাঁচেক ধরে বড়জলা বিজেপির এমন দৃশ্য দূরবীন দিয়েও দেখা যায় নি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন বড়জলা মন্ডলের জনপ্রিয় নেতা তথা মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ ও তার টিম। শুধু বড়জলা কেন? রাজ্যের বহু মন্ডলেই বিজেপির এমন সাংগঠনিক শক্তির চেহারা কমই দেখা যায়। ঊষা বাজার শনিতলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় একশতে একশ নম্বর পেয়েছেন মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ ও তার গোটা টিম। তার আভাস দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, সরকারি কাজের ফাঁকে অনেক দিন পর দলের এরকম জনসভা দেখেছি।

           মুখ্যমন্ত্রী জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, “সরকারি কাজের ফাঁকে অনেক দিন পর দলের এরকম জনসভা দেখেছি। রাস্তা দিয়ে আসার সময় টের পেয়েছি বড়জলার সাংগঠনিক শক্তি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঊষা বাজার শনিতলা মাঠ থেকেই এবার আমাদের শুরু।”


শুনলাম তারা নাকি আমাদের নামের লিস্ট বানাবে। আসলে তারা নয়, আমরাই লিস্ট বানিয়ে রেখে দিয়েছি। সময়েই তারা সামনে নিয়ে আসবো।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা জনসভা থেকে নাম না করে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী ও কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে হুঙ্কার দেন। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ” শুনলাম তারা নাকি আমাদের নামের লিস্ট বানাবে। আসলে তারা নয়, আমরাই লিস্ট বানিয়ে রেখে দিয়েছি। সময়েই তারা সামনে নিয়ে আসবো।”
  কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” এক সময় কেউ কেউ কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল। এরপর আমাদের দলেও এসেছিল। আবার চলে গিয়েছে। তিনি বুঝে গিয়েছেন বিজেপিতে কংগ্রেসের সংস্কৃতি চলবে না।


জনসভা সম্পর্কে আমাকে সে যেমনটা বলেছিল, ঠিক সেই রকমই হয়েছে। রাজীব ঘোষ ও তার গোটা টিমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বড়জলা মন্ডলের ঐতিহাসিক সমাবেশে জনজোয়ার দেখে মঞ্চ থেকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষকে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনসভা সম্পর্কে আমাকে সে যেমনটা বলেছিল, ঠিক সেই রকমই হয়েছে। রাজীব ঘোষ ও তার গোটা টিমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।


ঐতিহাসিক জনসভায় ৯২ পরিবারের ৩২৫ জন ভোটার সিপিআইএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে।

             এদিনের জনসভার মাধ্যমে বড়জলা মন্ডলের বাম শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে। ঐতিহাসিক জনসভায় ৯২ পরিবারের ৩২৫ জন ভোটার সিপিআইএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায় ও মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ।


ঊষা বাজার শনিতলা মাঠ থেকে বড়জলা পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায় ও মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ সহ অন্যান্য বক্তারা।

    “যে স্রোত ছিল থমকে, আজ সে স্রোত উচ্ছ্বাস,
বড়জলার মাটিতে জেগে উঠেছে নতুন আশ্বাস।
হাতে হাতে পদ্মের পতাকা, কণ্ঠে জয়ের গান,
জনতার এই জোয়ার বলে—আসছে নতুন প্রাণ”।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *