#সমীরণ রায়#
                    _____________

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। শনিবার সকালে নবপত্রিকা স্নান, স্থাপন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। নবপত্রিকা স্থাপন মহাসপ্তমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার। কলাগাছসহ ৯ ধরনের উদ্ভিদ দিয়ে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়।

ঢাকা ডেস্ক, ১৭ অক্টোবর।।
     বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীতে পূজা মণ্ডপে মণ্ডপে প্রনাম জানানোর পাশাপাশি প্রতিমার নান্দনিক সাজসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবং বর্ণিল আয়োজন দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সী ভক্তদের ভিড় লেগেছে। শনিবার দেবী দুর্গার দর্শন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি আর ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার সপ্তমী তিথি দুই দিন থাকছে। ফলে আজ রোববারও মহাসপ্তমী পূজা হবে। এ কারণে আগামীকাল সোমবার মহাষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। শনিবার সকালে নবপত্রিকা স্নান, স্থাপন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। নবপত্রিকা স্থাপন মহাসপ্তমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার। কলাগাছসহ ৯ ধরনের উদ্ভিদ দিয়ে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় রীতি ও মন্দিরের প্রচলন অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তবে এদিন দেবী দুর্গার পূজা, মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠ ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন ভক্তরা।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, শনিবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্রমতে, মহাসপ্তমীর সকালে প্রথমে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। ‘নবপত্রিকা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ৯টি পত্র অর্থাৎ গাছের পাতা। ‘নবপত্রিকা’র ৯টি উদ্ভিদ আসলে দেবী দুর্গার ৯টি বিশেষ রূপের প্রতীক। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। মহাসপ্তমীতে দিনভর দেবীদর্শন, দেবীর পায়ে অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণের মতো আনুষ্ঠানিকতা চলে। সন্ধ্যায় দেবীকে আরতি দেওয়া হয়। আজ রোববারও একই কর্মসূচি থাকবে। আগামীকাল সোমবার মহাষ্টমী পূজা হবে।
মহাসপ্তমী উপলক্ষে সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে মণ্ডপগুলোতে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। পূজার বিভিন্ন পর্বে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য। অনেকেই অঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি মণ্ডপে কিছু সময় কাটান। পূজা শেষে বিতরণ করা হয়েছে মহাপ্রসাদ। এ সময় দীর্ঘ লাইনে প্রসাদ নিতে দেখা গেছে ভক্তদের। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা দর্শন ও ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা। এরপর অনেকে পরিবার নিয়ে প্রতিমা দর্শনে বের হন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে দেখেন বিভিন্ন মণ্ডপ। পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা, বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং উৎসবকেন্দ্রিক কর্মচাঞ্চল্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় উৎসবের আমেজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতিতে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ভক্তিমূলক সংগীতে মুখর হয়ে উঠেছে মণ্ডপগুলো। প্রতিমার নান্দনিক সাজসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবং বর্ণিল আয়োজন দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও ছুটছেন পূজামণ্ডপে। কেউ দেবীর চরণে অঞ্জলি দিচ্ছেন, কেউ পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন উৎসবের আনন্দ। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে তৈরি হয়েছে আনন্দঘন পরিবেশ। মণ্ডপের প্রতিমা, নান্দনিক সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং শিল্পসম্মত নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কোথাও ঐতিহ্যবাহী সাজে প্রতিমা, কোথাও আধুনিক নকশায় তৈরি মণ্ডপ, বৈচিত্র্যময় আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে দেখা যায় আগ্রহ।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে ভক্তরা অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা স্মরণ করেন। মহাসপ্তমীর পূজা-অর্চনায় দেবীর কাছে মঙ্গল, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পূজাকে ঘিরে অনেক এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সংগীত ও অন্যান্য আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজন উৎসবের আনন্দ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য জোরদার করে।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি বছর শরৎকালে হিমালয়ের সুউচ্চ কৈলাস পর্বত ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবী দুর্গা। তাঁর এই আগমন ও গমনের মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত চলে দুর্গোৎসব। অশুভের প্রতীক মহিষাসুরকে বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধরায় আসেন দেবী দুর্গা। তিনি সন্তানদের নিয়ে কয়েকটি দিন পিতার গৃহে কাটিয়ে ফিরে যান। পঞ্জিকামতে, দেবীর এবারের আগমন ঘটেছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে। আর গমন করবেন নৌকায়। আগামী বুধবার বিজয়া দশমী শেষে কৈলাশে ফিরে যাবেন মা দুর্গা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *