ডেস্ক রিপোর্টার,১৯ সেপ্টেম্বর।।
কন্ঠস্বর জোরালো হচ্ছে, আর বিতর্ক গড়াচ্ছে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের টেবিলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কি মানবসভ্যতার অগ্রগতি নিশ্চিত করবে, নাকি ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করবে—এই প্রশ্নে এখন দুই ভাগে বিভক্ত বিশ্বের প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক মহল।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যান্থ্রোপিক-এর ২৭ বছর বয়সী গবেষক জেকব কক্সনের সাম্প্রতিক পদত্যাগ। তিনি খোলাখুলি অভিযোগ করেন যে, টেক সংস্থাগুলি নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় মেতে মানবজাতির জীবন নিয়ে ছক কষছে এবং এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি করছে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাঁর এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলার পর অ্যান্থ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদিও,
ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কের মতো শীর্ষকর্তারাও প্রযুক্তির এই লাগামহীন দৌড় ও সুরক্ষার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত এআই প্রযুক্তির ওপর আইনি লাগাম টানতে মার্কিন সেনেটে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য গ্রেগ কাসারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি করতে যাচ্ছেন ‘ব্যান আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট’।নতুন এই প্রস্তাবিত বিলে যে কঠোর পদক্ষেপগুলির কথা বলা হয়েছে।
মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে বা সরকারের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমন যে কোনো এআই সিস্টেম উদ্ভাবন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।উপযুক্ত সুরক্ষা বিধি এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অতি-উন্নত এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন স্থগিত। এআই ল্যাবগুলির ওপর নজরদারি চালাতে এবং বিপজ্জনক প্রযুক্তি ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে ক্যাবিনেট-স্তরের একটি নতুন ফেডারেল এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব ।
আইন অমান্য করলে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং নিয়ম ভঙ্গকারী সংস্থাগুলির জন্য সর্বোচ্চ স্তরের করপোরেট শাস্তির বিধান
টেক জায়ান্টদের একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে মানবজাতির সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাই এই আইনি লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য। তবে বাণিজ্য বনাম সুরক্ষার এই দ্বন্দ্বে স্যান্ডার্স ও কাসারের প্রস্তাবিত বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে কতটা পথ অতিক্রম করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

