ডেস্ক রিপোর্টার, ৭ সেপ্টেম্বর।।
২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বহু দূর! কিন্তু রাজনীতির পারদ এখনই চড়তে শুরু করেছে। আর অনুঘটক? সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বিস্ফোরক দাবি! ‘যদি ২০২৯ সালে কেন্দ্রে বিরোধী জোট জেতে, তবে কি প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি দাবি করবেন রাহুল গান্ধী?’ ঠিক এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে হঠাৎই রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি—তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।রাজ্যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য কি কেবলই জল্পনা, নাকি ইন্ডি জোটের ভেতরের নতুন কোনো সমীকরণ? আসুন দেখে নিই আজকের বিশেষ রিপোর্ট!
ভোটের ময়দান ত্রিপুরা কিন্তু সুর বেজে উঠল দিল্লির রাজনীতির!রাজ্যজুড়ে যখন ভিলেজ কমিটির ভোটের তোড়জোড় তুঙ্গে।ঠিক তখনই জাতীয় রাজনীতি নিয়ে বোমা ফাটালেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক।
কথা ছিল স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে, কিন্তু প্রসঙ্গ ঘুরে গেল ২০২৯-এর লোকসভা ভোটে। সিপিএমের এই বর্ষীয়ান নেতা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে রাহুল গান্ধীই প্রধানমন্ত্রীর পদের মূল দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন!তবে জল্পনার আগুন উসকে দিয়েই কিছুটা কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। এম এ বেবি এও সংযোজন করেন—প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নির্বাচনের ফলের ঠিক পরেই, আগে থেকে নয়।
কেন সিপিএমের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্য?তারমধ্যে রয়েছে ৩টি বড় প্রশ্ন।
প্রথমতঃ,ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ।
অর্থাৎ এই মন্তব্যের মাধ্যমে কি সিপিএম আগেভাগেই রাহুল গান্ধীকে জোটের মুখ হিসেবে মেনে নেওয়ার সলতে পাকাচ্ছে?
দ্বিতীয়তঃ আঞ্চলিক দলগুলোর অবস্থান।অর্থাৎ টিএমসি, এসপি বা আম আদমি পার্টির মতো আঞ্চলিক শরিকরা কি নির্বাচন-পূর্ব এই ‘রাহুল-কেন্দ্রিক’ ভাবনাকে সহজে মেনে নেবে?
তৃতীয়তঃটাইমিং-এর খেলা।অর্থাৎ ত্রিপুরা রাজ্যে ভিলেজ কমিটি ভোটের মুখে হঠাৎ কেন জাতীয় স্তরের প্রধানমন্ত্রীর মুখ নিয়ে এই মন্তব্য? এটা কি দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল, নাকি ভোটের হাওয়া ঘোরানোর চেষ্টা?
রাজনীতিতে কোনো কথাই ‘অকারণ’ নয়, আর এম এ বেবির মতো অভিজ্ঞ নেতার মুখ থেকে আসা এই বার্তা নিঃসন্দেহে বিরোধী শিবিরের ভেতরেও নতুন চর্চা শুরু করে দিল। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে ২০২৯-এর এই আগাম সমীকরণ কি জোটকে শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন বিরোধের জন্ম দেবে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

