স্পোর্টস ডেস্ক, ১২ অক্টোবর।।
৪ উইকেট, ৯টি মেডেন ও মাত্র ৩০ রান! বলের গলায় ব্যাটারদের কাঁপন ধরিয়ে আবার নিজের জাত চেনালেন মহম্মদ শামি।
রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার জার্সিতে বল হাতে ফের বিধ্বংসী মেজাজে মহম্মদ শামি। রবিবার কলকাতার কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে তাঁর দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ল দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৪০ রানেই অল আউট গেল দিল্লির প্রথম ইনিংস। ধস নামানোর পিছনে সবচেয়ে কারিগর ভূমিকা বাংলার অভিজ্ঞ পেসার শামি।
দিল্লির প্রথম ইনিংসে ১৭.৩ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিলেন শামি। এর মধ্যে ছিল ৯টি মেডেন ওভার! লাইন-লেংথ, সুইং এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বারবার পরীক্ষার মুখে ফেললেন তিনি।
যশ ধুলকে মাত্র ৯ রানে ফিরিয়ে দিয়ে দিল্লির ব্যাটিংয়ে প্রথম বড় আঘাত হানেন শামি। এরপর আয়ুষ দোসেজার ৪৫ রানের লড়াকু ইনিংস থামিয়ে দেন তিনি। শেষদিকে হৃতিক শোকিনের অর্ধশতরানের লড়াইও শেষ করে দেন বাংলার এই পেসার। পাশাপাশি দিবিজ মেহরার উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লির লোয়ার অর্ডারেও বড় ধাক্কা দেন শামি।
তবে শুধু শামি নন, বাংলার বোলিং আক্রমণের সম্মিলিত দাপটেই ভেঙে পড়ে দিল্লি। আকাশ দীপ ২টি এবং মুকেশ কুমার ১টি উইকেট নেন। আমির গনি তুলে নেন ৩টি উইকেট। ফলে ৭৭.৩ ওভারে ২৪০ রানে শেষ হয়ে যায় দিল্লির প্রথম ইনিংস।
দিল্লির হয়ে হৃতিক শোকিন ৫৬ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। আয়ুষ দোসেজা করেন ৪৫ রান। একসময় ১৪৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল দিল্লি। সেখান থেকে শেষ তিন উইকেটে আরও ৯২ রান যোগ করে তারা। ফলে বাংলার বোলাররা দিল্লিকে আরও কম রানে আটকে রাখতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা থেকেই গেল।
তবুও প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে মহম্মদ শামির দুরন্ত পারফরম্যান্স।ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে বল হাতে শামির এই আগুনে প্রত্যাবর্তন আবার প্রমাণ দিল, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার জোরে তিনি এখনও যে কোন সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন।
শামির সেরা সময় কিন্তু শেষ হয়নি। কিন্তু কল্যাণীর মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স যেন সেই সমস্ত সমালোচনারই উপযুক্ত জবাব দিয়ে দিল। ১৭.৩ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট, সঙ্গে ৯টি মেডেন এমন বোলিং পরিসংখ্যান যে কোনও ব্যাটিং লাইনআপের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ।
শামির বয়স বর্তমানে ৩৬। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে তিনি আর ভারতীয় দলের হয়ে খেলেননি । কিন্তু জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের গাঁথা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, কল্যাণীর আগুন ঝরানো পারফরমেন্স আরও জোরালো হল।
কল্যাণীতে শামির আগুনে স্পেল পুনরায় প্রমাণ দিল, অভিজ্ঞ এই পেসারকে উপেক্ষা করা সহজ তবে তাঁর দক্ষতাকে অস্বীকার করা কঠিন বিষয়।
Oplus_16908288