সাধারণত যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ ‘ইউডি কেস’ (Unnatural Death Case) রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের প্রধান বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। কিন্তু এই মামলায় ময়নাতদন্তের পূর্বেই আমতলী এসডিপিও-র তরফ থেকে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করায় ক্ষুব্ধ পরিবার ও আইনজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্টার,১৪ জুন।।
     শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মরত কর্মী ২২ বছর বয়সি যুবতী মনিষা দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু। মৃত  মনীষা দাস এর ফরিদা পরিবারের অভিযোগ তাকে খুন করা হয়েছে অপরদিকে আমতলী এসডিপিও জানিয়েছেন মনীষা আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। মৃত মনীষার ময়নাতদন্তের পূর্বেই আমতলী এসডিপিও র আত্মহত্যা বলে মন্তব্য করার বিষয়টি নিয়ে রহস্য  দানা বেধেছে। প্রশ্ন উঠেছে পোস্টমটাম এর পূর্বেই একজন পুলিশ অফিসার কি এই ধরনের মন্তব্য করতে পারে? এই বিষয়ে আইন কি বলছে?
       মৃত মনীষা দাসের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। তাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে তারা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন।
অপরদিকে, আমতলী মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, মনীষা আত্মহত্যা করেছে বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
  ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার আগেই একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কীভাবে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে রায় দিতে পারেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
      সাধারণত যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ ‘ইউডি কেস’ (Unnatural Death Case) রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের প্রধান বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। কিন্তু এই মামলায় ময়নাতদন্তের পূর্বেই আমতলী এসডিপিও-র তরফ থেকে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করায় ক্ষুব্ধ পরিবার ও আইনজ্ঞদের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, এই মন্তব্য কি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে?

পারমিতা পান্ডে,( এসডিপিও, আমতলী)

ময়না তদন্তের আগে এমন মন্তব্য কি গ্রহণযোগ্য? আইন কী বলছে?

কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত বা প্রাথমিক রিপোর্ট আসার আগে পুলিশের এই ধরনের মন্তব্য আইনগত ও পদ্ধতিগতভাবে কতটা যুক্তিযুক্ত? এই বিষয়ে ভারতীয় ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং বর্তমান ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহতি (BNSS) ও পুলিশ রেগুলেশনের নির্দেশিকা অত্যন্ত স্পষ্ট।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমতঃ,ময়নাতদন্তের আগেই যদি কোনো উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা মৃত্যুর কারণ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মত বা ‘থিওরি’ (যেমন আত্মহত্যা) প্রকাশ করে দেন, তবে তা তদন্তকারী অফিসারের নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। দ্বিতীয়তঃ,আইন অনুযায়ী, অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট বা  Inquest Report তৈরি করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টই হলো মৃত্যুর কারণ জানার প্রথম আইনি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। তার আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা পুলিশের পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তৃতীয়ত,দেশের বিভিন্ন উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার আগে পুলিশ কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে এমন কোনো মন্তব্য বা অনুমান প্রকাশ করতে পারেন না, যা মামলার নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করে বা অপরাধীকে আড়াল করতে সাহায্য করে।

পুলিশ কেন ময়নাতদন্তের বৈজ্ঞানিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করল না?

এখন জনমনে প্রশ্ন মনীষা দাসের মৃত্যু যদি সত্যিই আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে পুলিশ কেন ময়নাতদন্তের বৈজ্ঞানিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করল না? আর যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়, তবে তদন্তের শুরুতেই ‘আত্মহত্যা’র তত্ত্ব খাড়া করে কি তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে?এই নিয়ে কিন্তু কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন গুঞ্জন।
      সে যাই হোক, মৃত মনীষার পরিজনদের চোখের জল আর আমতলী এসডিপিও-র আগাম মন্তব্য—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন মনীষা দাসের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *