ডেস্ক রিপোর্টার,৫ নভেম্বর।।
দরজায় আলোর উৎসব দীপাবলি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা রঙের রোশনাইয়ে সেজে উঠতে প্রস্তুত চারপাশ। দীপাবলি মানেই মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় অন্ধকার দূর করে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দীপাবলির সেই ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপের জায়গা ক্রমশ দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন বাহারি ইলেকট্রনিক লাইট। আর আধুনিকতার এই দাপটে যেন দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে মৃৎশিল্পীদের তৈরি মাটির প্রদীপের কদর।বর্তমান সময়ে রঙিন ও আধুনিক আলোকসজ্জার প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী প্রদীপের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এই কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির জীবিকা ও উপার্জনের ওপর।
দীপাবলিকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এবং তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের অন্তর্গত করুইলং এলাকার মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্রপাল।
সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও দীপাবলিকে সামনে রেখে মাটির প্রদীপ তৈরিতে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন তিনি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একের পর এক সুন্দর প্রদীপ তৈরি করলেও সেই অনুপাতে লাভের মুখ দেখছেন না। মূলত মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেই তাঁর সংসার প্রতিপালন হয়। কিন্তু বর্তমানে বাজারে মাটির পণ্যের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এই শিল্পী।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন এই মৃৎশিল্প আজ আধুনিকতার চাপে সংকটের মুখে। দীপাবলির উৎসবে যখন চারদিকে ঝলমলে আলোকসজ্জার প্রস্তুতি, তখন সেই উৎসবকে খাঁটি মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখছেন শিল্পীরা। কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমহ্রাসমান চাহিদা এবং চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলালেও আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে মাটির প্রদীপের ব্যবহার বাড়ানোর এবং বিপন্ন এই মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পপ্রেমী মানুষ এবং ওয়াকিবহাল মহল।

