তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৫ নভেম্বর।।
                 আচমকাই তেলিয়ামুড়ায় হইচই! এলাকার আলোচিত নাম পাচারকারী চাঁন মিয়ার বাড়িতে হানা দিল কাস্টম দপ্তর। কেন হানা? কীসের খোঁজে? এই প্রশ্নেই এখন তোলপাড় গোটা তেলিয়ামুড়া। জনমনে একটাই কৌতূহল – এতদিন পর হঠাৎ কেন নড়েচড়ে বসল কাস্টম?
            সূত্রের খবর, গত ২৮ অক্টোবর অসমের ধুবড়ি জেলার বঙাইগাঁও রেল স্টেশনে প্রায় এক কোটি টাকার শুকনো সুপারি বাজেয়াপ্ত করে রেল পুলিশ ও কাস্টম। তদন্তে নেমে তাঁরা জানতে পারেন, এই বিপুল পরিমাণ শুকনো সুপারি রেলপথে ত্রিপুরা থেকে বহিঃরাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আর সেই সূত্র ধরেই নাকি তেলিয়ামুড়ায় এই হানা!
            এখানেই শেষ নয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৮-৯ মাস আগে আগরতলার বাধারঘাট রেল স্টেশনে রেলের ওয়াগন ভর্তি ফেন্সিডিল বহিঃরাজ্য থেকে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার পথে আগরতলা জি.আর.পি থানার পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন চাঁন মিয়া ও তাঁর পুত্র আক্তার হোসেন। তৎকালীন জি.আর.পি থানার ওসি তাপস দাস ছিলেন সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার।
            প্রতিবেশীদের অভিযোগ আরও চাঞ্চল্যকর। তাঁদের দাবি, চাঁন মিয়ার বাড়িতে নাকি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটে নিজের উৎপাদিত গ্যাসের চুলা বিক্রির আড়ালে বড়সড় কারবার চলছে। অথচ এতদিন এ ব্যাপারে কাস্টম নাকি একেবারে ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকায় ছিল! কেন? কোন অজ্ঞাত কারণে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে লোকমুখে।
           আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন – একসময়ের রিক্সা চালক চাঁন মিয়ার কাছে আচমকা কোটি কোটি টাকা এল কোথা থেকে? তেলিয়ামুড়া শহরে প্রাসাদসম অট্টালিকা, বাইশঘর এলাকায় কয়েক কানি জমি, বিশাল গুদাম, এমনকি আগরতলার বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি আর ফ্ল্যাট! এত টাকার উৎস কী?
            এখন গোটা তেলিয়ামুড়াবাসীর একটাই প্রশ্ন – কাস্টমের এই হানা কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি এবার সত্যিই খুলবে রহস্যের জট?

  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *