ডেস্ক রিপোর্টার, ২৫ অক্টোবর।।

     হিন্দুবাদী দল – ভারতীয় জনতা পার্টি। গোটা দেশে সনাতন ধর্মকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা ভাজপার অন্যতম লক্ষ্য। আজ এই ভারতীয় জনতা পার্টির কুলাঙ্গার মণ্ডল সভাপতি সনাতন ধর্মের এক মহাপুরুষের আশ্রমের জমি হরণ করে নিয়ে গিয়েছে। তারপরও নেই কোনো সুষ্ঠ বিচার?

সনাতন ধর্মের আধুনিক ইতিহাস এবং হিন্দু মহাপুরুষ ও সাধকদের মধ্যে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর (শ্রী রামচন্দ্র চক্রবর্তী) অত্যন্ত উচ্চ ও অনন্য মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর অবিভক্ত বাংলার আধ্যাত্মিক পুনরুত্থানে তিনি ছিলেন এক অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। সাধারণ ভক্তরা তাঁকে লোকগুরু বা কেবল একজন সাধক হিসেবেই দেখেন না, বরং অনেকে তাঁকে ‘পূর্ণব্রহ্ম অবতার’ বা ‘শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ’ (সত্যনারায়ণ) রূপে ভক্তি ও পূজা করেন।

শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আধ্যাত্মিক গভীরতা পরিমাপ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর এক শিষ্যের কাছে মন্তব্য করেছিলেন, “সমুদ্রের কূল আছে, কিন্তু তোমার গুরুদেবের কোনো কূল নেই (তিনি আকুল)”।

           সনাতন ধর্মের মহাপুরুষ শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের একটি আশ্রম রয়েছে বাধারঘাট বিধানসভার চারিপাড়াতে। নাম – “রাম নিবাস আশ্রম”। রাম ঠাকুরের আশ্রমটি স্থানীয় বিজেপির বিধায়িকা মিনা রানি সরকারের ( কথিত আছে, তিনি নাকি ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে পারেন নি) বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে। মিনা রানি নিজেও নাকি রাম ঠাকুরের দীক্ষিত (!) অথচ মিনা রানি সরকারের বাধারঘাট মন্ডলের সভাপতি মনীষ দেব রাম নিবাস আশ্রমের তিন কানি জমি নিজের নামে করিয়ে  অন্যদের কাছে  বিক্রি করে দিয়েছেন। আশ্রমের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৫০ কানি।

        বাধারঘাট মণ্ডল সভাপতি তথা জমিদ*স্যু মনীষ দেবের বিষয়টি আঁচ করতেই রাম নিবাস আশ্রম কর্তৃপক্ষ আইনের আশ্রয় নেয়। তারা মামলা করে সিভিল জাজ (Civil Judge) বা দেওয়ানি বিচারকের (জুনিয়র বিভাগ) আদালতে মামলা দায়ের করে মনীষ দেবের বিরুদ্ধে। মামলা আদালতে বিচারাধীন।


            সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সনাতন ধর্মের একজন মহাপুরুষের আশ্রমের জমি কি ভাবে গিলে খেলেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি মনীষ দেব? এই বিষয়টি নিয়ে হিন্দুবাদী বিজেপি ও রাজ্যের আরএসএস নেতৃত্ব, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরং দল নিশ্চুপ কেন? তাদের মেরুদণ্ড কি ভেঙে গিয়েছে? বাংলাদেশে চুন থেকে পান খসলেই রাজ্যের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল নিজেদের শক্তি জাহির করে।


আর নিজের ঘরেই ইদুরের মতো বেড়া কেটে মনীষ দেব রাম ঠাকুর আশ্রমের জমি বিক্রি করে বিলাশ বহুল গাড়ি দিয়ে চক্কর কাটছেন রাজপথে। তাতে কোনো হেলদোল নেই  নাম কে ওয়াস্তে , সাইনবোর্ড সর্বস্ব বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের লোকজনের। ছিঃ ছিঃ। লজ্জা, লজ্জা। আরএসএস থেকে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে বজরং দল কেউই কি প্রতিবাদ করবে না জমিদ*স্যু তথা বিজেপি নেতা মনীষ দেবের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *