খোয়াই প্রহরমুড়া এলাকার বাসিন্দা বিধু কপালি ঠিকাদার সমীরণ দেবনাথের অধীনে তোতাবাড়ি এলাকায় এস.টি. লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন। অভিযোগ, লাইনে কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই উচ্চ ভোল্টেজের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন লাইনে থাকা বিধু।
তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২৯ জুন।।
বিদ্যুতের স্যুইচ কাদের হাতে? অবহেলার বলি দৈনিক হাজিরার এক শ্রমিক! তোতাবাড়িতে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভ ।এক মুহূর্তের চরম অবহেলা, আর তাতেই অকালে নিভে গেল এক অসহায় দৈনিক হাজিরা শ্রমিকের জীবন। কল্যাণপুর থানার অন্তর্গত তোতাবাড়ি এলাকায় বিদ্যুতের এস.টি. লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো বিধু কপালি নামের এক দিনমজুরের।
খোয়াই প্রহরমুড়া এলাকার বাসিন্দা বিধু কপালি ঠিকাদার সমীরণ দেবনাথের অধীনে তোতাবাড়ি এলাকায় এস.টি. লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন। অভিযোগ, লাইনে কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই উচ্চ ভোল্টেজের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন লাইনে থাকা বিধু কপালি।
এই ঘটনার পর সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের পরিবার এবং সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিদ্যুৎ দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যখন লাইনে শ্রমিকরা কাজ করছিল তখন কার নির্দেশে এবং কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলো? কাজ শুরুর আগে ও শেষে যে নির্ধারিত প্রোটোকল বা ‘শাটডাউন’ নিয়ম থাকার কথা, তা কি আদৌ মানা হয়েছিল? নাকি স্রেফ সমন্বয়হীনতা আর প্রশাসনিক গাফিলতির মূল্য দিতে হলো এক নিরীহ শ্রমিককে নিজের প্রাণ দিয়ে?
স্থানীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা না করেই এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল।বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোতাবাড়ি ও তৎ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ও সহকর্মীদের স্পষ্ট দাবি—এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। সেই সাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে মৃত শ্রমিকের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।এখন দেখার, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিদ্যুৎ দপ্তর ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

