স্পোর্টস ডেস্ক, ২রা নভেম্বর।।
ঘরের মাঠে রঞ্জি ট্রফিতে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই চাপের মুখে স্বাগতিক ত্রিপুরা। সোমবার আগরতলার এমবিবি স্টেডিয়ামে ত্রিপুরা – সৌরাষ্ট্রের ম্যাচ শুরু হয়। রাজ্য দল প্রথম ব্যাট করতে নামে। ম্যাচের শুরু থেকেই সৌরাষ্ট্রের বোলারদের বিরুদ্ধে দাপটে এমবিবি স্টেডিয়ামের বাইশ গজে খরকুটুর মতো উড়ে যায় রাজ্য দলের প্রথম সারির ব্যাটাররা। মাত্র ২৮ রানের রাজ্য দলের প্রথম পাঁচ উইকেটের পতন ঘটে। এক সময় মনে হয়েছিল ত্রিপুরা তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না।
এই পরিস্থিতিতে ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে চোয়াল শক্ত করে সৌরাষ্ট্রের বোলারদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাজ্যের দুই ব্যাটসম্যান সেন্টু সরকার ও শ্রীদাম পাল। এই জুটি ১২৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে স্বস্তি এনে দেয় ত্রিপুরার শিবিরে। শ্রীদাম পাল তার নিশ্চিত শতক হাত ছাড়া করেন। ব্যক্তিগত ৮৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। এর কিছুক্ষণ পর প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সেন্টু সরকার। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে আউট হয় সেন্টু। অল্পের জন্য হাত ছাড়া হয় তার অর্ধ শতক। এরপর অধিনায়ক মনিশঙ্কর মুড়া সিং ও বিক্রম দেবনাথ সৌরাষ্ট্রের বোলারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। দিনের শেষে মনিশঙ্কর ৩৩ রান ও বিক্রম ৩২ রানে অপরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়েন। ত্রিপুরার মোট রান ২১৯।
রবীন্দ্র জাদেজা বিহীন সৌরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে হলে ত্রিপুরার শেষ ভরসা মনি শংকর ও বিক্রম জুটি। দ্বিতীয় দিনে ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা রাজ্যের এই দুই ব্যাটসম্যানদের জন্য গুরুত্ব পূর্ণ। এই সময় কাটিয়ে দিতে পারলে ত্রিপুরাও বড় স্কোর গড়তে পারে। তার জন্য অবশ্যই মনি শঙ্কর ও বিক্রমকে ক্রিজে থাকতে হবে।
প্রথমে শ্রীদাম – সেন্টু জুটি, পরে মনিশঙ্কর – বিক্রম জুটি যে ক্ষিপ্রতা দেখিয়ে সৌরাষ্ট্রের বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাট করেছেন, তাতে স্পষ্ট পিচে তেমন কোনো জুজু ছিল না। রাজ্য দলের প্রথম সারির ব্যটসম্যানরা শুরু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নিজেদের উইকেট গিফট করে দিয়ে এসেছে সৌরাষ্ট্রকে। এখন দেখার বিষয় ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে কতক্ষণ নিজেদের ধরে রাখতে পারেন এমবিবির সকালের স্যাতস্যাতে পিচে।

