২৩- র ত্রিপুরার “পলিটিক্যাল ব্যাটেলে ” কংগ্রেস – সিপিআইএম ছিলো মিত্রশক্তি। এই মিত্র শক্তিকে বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্ত পরাস্ত করতে পারেন নি ঠিকই, কিন্তু সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায়, তিনি যে লম্বা রেসের ঘোড়া তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমান করে দিয়েছিলেন।
রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে নারী নেত্রী পাপিয়া দত্ত একটি ব্র্যান্ড নেম। তিনি বর্তমানে প্রদেশ বিজেপির সহ-সভাপতি। ভাজপা সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পাপিয়া দত্তের লড়াই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন। অতীতের বাম জামানায় গেরুয়া শিবিরে নারীশক্তিকে একত্রিত করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন পাপিয়া। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এই সমস্ত পরিসংখ্যান আজও জ্বল জ্বল করছে কৃষ্ণনগরের কুশাভাউ ভবনের ” পলিটিক্যাল বোর্ডের গ্রাফে”।
অত্যন্ত সাদাসিদা জীবন যাপন করা বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্ত ২০২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে সর্ব প্রথম প্রবেশ করেন সংসদীয় রাজনীতির বৃত্তে।
অত্যন্ত সাদাসিদা জীবন যাপন করা বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্ত ২০২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে সর্ব প্রথম প্রবেশ করেন সংসদীয় রাজনীতির বৃত্তে। রাজধানীর হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্র ৬- আগরতলা থেকে তিনি করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। ২৩- র ত্রিপুরার “পলিটিক্যাল ব্যাটেলে ” কংগ্রেস – সিপিআইএম ছিলো মিত্রশক্তি। এই মিত্র শক্তিকে বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্ত পরাস্ত করতে পারেন নি ঠিকই, কিন্তু সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায়, তিনি যে লম্বা রেসের ঘোড়া তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমান করে দিয়েছিলেন।
পাপিয়া দত্ত – বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ।
শিক্ষায় স্নাতক বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্তের সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা।
শিক্ষায় স্নাতক বিজেপি নেত্রী পাপিয়া দত্তের সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা। এই তথ্য ২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা করা হলফ নামা অনুযায়ী।স্বাভাবিক ভাবেই স্পস্ট তিনি নিজের জন্য রাজনীতি করতে আসেন নি। তিনি রাজনীতি করছেন মানুষের জন্য। তাই এই মুহূর্তে ৬- আগরতলার দীর্ঘদিনের দাদা সুদীপ রায় বর্মনের গগন চুম্বি জন প্রিয়তায় ডিনামাইট ছুটতে সক্ষম হয়েছেন ভাজপা নেত্রী পাপিয়া দত্ত। এবং জন প্রিয়তার টিআরপিতে তিনিই অর্থাৎ ছয় – আগরতলা বিধানসভার দিদিই নম্বর ওয়ানে। বলছেন, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা।
চতুর রাজনৈতিক মস্তিষ্কের ভাজপা নেত্রী পাপিয়া দত্ত কংগ্রেসের ইটের বদলে ছুঁড়েছিলেন পাটকেল।
পাপিয়া দত্ত তার প্রমানও দিয়েছিলেন ২৪- র লোকসভা নির্বাচনে। বিধানসভা নির্বাচনে পাপিয়া দত্ত পরাজিত হয়েছিলেন ৮ হাজার ১শ ৬২ ভোটে। ২৪- র লোকসভা নির্বাচনেই তিনি করেছেন কিস্তিমাত।আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির সাংসদ প্রার্থী বিপ্লব কুমার দেব জয়ী হয়েছিলেন ১০ হাজারের অধিক ভোটে। প্রতিপক্ষ ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ কুমার সাহা। ৬- আগরতলা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বিপ্লব কুমার দেবের বিপুল ভোটে জয় পাওয়ার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন খোদ নেত্রী পাপিয়া দত্ত। ঠিক এই ভাবেই, চতুর রাজনৈতিক মস্তিষ্কের ভাজপা নেত্রী পাপিয়া দত্ত কংগ্রেসের ইটের বদলে ছুঁড়েছিলেন পাটকেল।
।সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।
নেত্রীর বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছিল পোস্টারিং।
হায় রে! অভিযোগ, গত বছর দেড়েক আগে আগরতলা কেন্দ্রের বিজেপির জনপ্রিয় নেত্রী পাপিয়া দত্তকেই কালিমালিপ্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রের স্ক্রিপ্ট রচনা করা হয়েছিল। নেত্রীর বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছিল পোস্টারিং।
পাপিয়া দত্তের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা অপবাদের পোস্টারিং।( ফাইল ছবি)।
কে বা কারা পোস্টারিং করেছিলো? নেপথ্যে থাকা কারণ কি? এই সমস্ত তথ্য আর ছাই চাপা দিয়ে রাখা যায় নি। ছাই ভেদ করে প্রকাশ্যে চলে এসেছে আসল সত্য। ৬- আগরতলা কেন্দ্রের জনমনে পুরো ঘটনা স্ফটিকের মতো পরিষ্কার।
প্রদেশ বিজেপির ছয় সদস্যের সম্ভাব্য সভাপতির তালিকায় রয়েছে পাপিয়া দত্তের নামও। চলতি মাসের ২০ তারিখের পরেই প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি নাম ঘোষণা হবে।
কনকনে ঠাণ্ডার সন্ধ্যাতেও নারীদের পাশে পাপিয়া দত্ত।
এত কিছুর পরও নিজে নিশ্চুপ থেকে রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন ৬ – আগরতলার দিদি পাপিয়া দত্ত। কাউর বিরুদ্ধে তাঁর নেই কোনো অভিযোগ। তিনি শুধু ভালবাসেন মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে। আর এই কারণেই প্রদেশ বিজেপির ছয় সদস্যের সম্ভাব্য সভাপতির তালিকায় রয়েছে পাপিয়া দত্তের নামও। আগামী ২০ জানুয়ারির পরেই প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি নাম ঘোষণা হবে। তাতেই স্পস্ট, এই মুহূর্তে পাপিয়া দত্ত নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কতটা উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এবং নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন কতটা রাজনৈতিক সংযম?
‘আতুর ঘর’ থেকে খেলার মাঠে দিদির বিচরণ।
ভাজপা নেত্রী পাপিয়া দত্তের এই আচরণ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, কবির সেই বিখ্যাত কবিতার পংক্তি গুলি….