সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতেবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার কারণেই মূলত বাজারে একটি কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।
#সমীরণ রায়#
_____________
ঢাকা, ৩০ মার্চ।।
বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও সরকারের বেশি প্রস্তুতি ও মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অবশ্য, গাড়িতে তেল না পাওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক এমপি।
সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতেবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার কারণেই মূলত বাজারে একটি কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।
জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে এই বিবৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের সাথে আমাদের অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা, দৈনন্দিন জীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুত ও অগ্রিম প্রস্তুতির বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করেছি। আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ চাপের মুখে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন এমিপিরা। সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সংসদকে জানান, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে নিজের গাড়ির জন্য তেল পাননি তিনি। তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম।
এ সময় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আমি নিজে আজকে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও আমার গাড়ির জন্য তেল পাইনি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তাহলে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সহজেই অনুমেয়।
তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে বোতলে করে ঠিকই বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকরা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে তেল কিনছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে।
এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও জ্বালানি সংকট ও তা নিয়ে জনগণের দূর্ভোগের বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে জ্বালানী মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। সোমবার মজুত আছে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এই ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। বিপুল সরবরাহের পরও মজুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে, সরকার আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সুদৃঢ় রেখেছে।
পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত বছরের মার্চ মাসের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে এবার ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রকৃত চাহিদা সে অনুপাতে বাড়েনি। জনমনে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের চেয়ে অকটেন বিক্রি প্রায় ৯৬ শতাংশ বেড়েছে। মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। অকটেন (৬.৮%) ও পেট্রোলের (৬.৭৭%) জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঠিক চিত্র নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের প্রবণতায় এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। এ সংকট উত্তরণে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান চালিয়ে ১৫৩টি মামলা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি। এপ্রিলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ এবং দেশীয় উৎস থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মজুতে আরও দুই মাসের চাহিদা অনায়াসে পূরণ হবে।

