“সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এভাবে বছরের পর বছর অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোটি টাকা খরচ করেও যদি সাধারণ মানুষ তার সুফল না পায়, তাহলে তা স্পষ্টতই প্রশাসনিক ব্যর্থতা।”

তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২রা এপ্রিল।।
       প্রায় চার বছর অতিক্রম করলেও এখনো বাস্তবে ঘরে ঘরে পৌঁছায়নি পানীয় জল। অভিযোগ উঠেছে মূঙ্গিয়কামী ব্লকের অধীন নোনাছড়া এডিসি ভিলেজের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত ‘অটল জল জীবন মিশন’ (Har Ghar Jal) প্রকল্প নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের অধীনে এলাকায় জলের প্লান্ট স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিস্তৃত পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, প্রকল্প চালুর দীর্ঘ সময় পরেও সেই পাইপলাইনে  জলও পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ওরা আজও টং ঘরে কেন?

পাইপলাইন বসানো হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, শুরুতে কাজ দ্রুত গতিতে এগোলেও পরে তা থমকে যায়। পাইপলাইন বসানো হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে আজও এলাকার মানুষকে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পানীয় জলের জন্য ভরসা করতে হচ্ছে দূরের কুয়া, পাহাড় চুসাজল বা অন্য বিকল্প উৎসের উপর। এতে যেমন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে মত স্থানীয়দের।
এই প্রেক্ষাপটে এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক তথা আইপিএফটি দলের মুঙ্গিয়াকামী ব্লকের বি.এ.সি চেয়ারম্যান সুনীল দেববর্মা সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে যান।

।পাহাড়ে সাইন বোর্ড সর্বস্ব প্রকল্প।

কোটি টাকা খরচ করেও যদি সাধারণ মানুষ তার সুফল না পায়, তাহলে তা স্পষ্টতই প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এর দায় কার? কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর?

পরিদর্শন শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এভাবে বছরের পর বছর অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোটি টাকা খরচ করেও যদি সাধারণ মানুষ তার সুফল না পায়, তাহলে তা স্পষ্টতই প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এর দায় কার? কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর?

হায় রে! উন্নয়ন। এই নোংরা জল খেয়ে বেঁচে আছে মানুষ।

শুধুমাত্র জল প্রকল্প নয়, এই এলাকার আরও একাধিক সমস্যাও দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়ে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জল প্রকল্প নয়, এই এলাকার আরও একাধিক সমস্যাও দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, বিদ্যুৎ পরিষেবার অনিয়মিততা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব—সব মিলিয়ে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সুনীল দেববর্মা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “অবিলম্বে এই জল প্রকল্প চালু করে ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য মৌলিক সমস্যাগুলিও দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”

এলাকায় উড়ছে শাসক জোট আইপিএফটির ঝান্ডা।


এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও যদি এই প্রকল্পের সুফল না মেলে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশাজনক।এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেওয়া হোক, যাতে ‘হর ঘর জল’ প্রকল্প সত্যিই প্রতিটি ঘরে জল পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *