তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৪ এপ্রিল।।
ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে শনিবার ১১ মহারানী–তেলিয়ামুড়া নির্বাচনী কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী বিল্লু জমাতিয়ার সমর্থনে চাকমাঘাটে আয়োজিত হল এক বৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশ। উপস্থিত জনসমাগম ও নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভোটের আগে জনজাতি অধ্যুষিত এই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে নড়চড় শুরু হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। পাশাপাশি মঞ্চে ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়, সাংসদ সম্বিত পাত্র, বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের উপস্থিতি সমাবেশকে বাড়তি গুরুত্ব এনে দেয়।সভামঞ্চ থেকেই শাসকদলের শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত মিলল, যখন তিপ্রা মথা ছেড়ে ৩১টি পরিবারের মোট ১০৬ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতৃত্ব তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পূর্ব এই যোগদান স্থানীয় ভোট-সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।বক্তব্যে একাধিক নেতা বিজেপি প্রার্থী বিল্লু জমাতিয়াকে জয়ী করার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিজেপির বিকল্প নেই। একই সুর শোনা যায় কল্যাণী সাহা রায় ও পিনাকী দাস চৌধুরীর বক্তব্যেও।
প্রধান বক্তার ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বিল্লু জমাতিয়াকে “সৎ ও নিষ্ঠাবান যুবক” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনজাতি এলাকায় উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার কখনও এডিসির জমিতে নগর পঞ্চায়েত করে নি। ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে কেউ কেউ। এডিসির এক ইঞ্চি জমিও নগর পঞ্চায়েতকে দেবে না সরকার।
তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেই ছায়া ফেলে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। শুক্রবার গভীর রাতে মুঙ্গিয়াকামী এলাকার জুমবাড়িতে বন্য হাতির হামলায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। সেই খবর পেয়ে সমাবেশে যোগদানের আগে মুখ্যমন্ত্রী মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সমাবেশ ঘিরে তেলিয়ামুড়া ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

