আগরতলা, ১৩জুন।।
আগরতলার মহেশখলায় টেকনো নলেজ ক্যাম্পাসে কোনরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরা (টিআইইউটি)-র নামে অসত্য কুৎসা রটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে টিআইইউটি-র নামে অসত্য কুৎসা প্রচার। শুধু টিআইইউটি-কেই নয়, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকেও কালিমালিপ্ত করতে কেউ কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সেই অপপ্রচারে সামিল হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েই কিছু শিক্ষার্থীও। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজ্য সরকারের বদনাম করে রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে টেকনো ইন্ডিয়া এধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিগ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।
রাজ্য সরকার ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষার অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে। তাই তাঁরা টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ-সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে ত্রিপুরায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার লক্ষ্যে আইন পাশ করেছেন। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ সরকারি নিয়ম মেনেই নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিকাল এডুকেশন (এআইসিটিই), বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, হেল্থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট প্রভৃতির স্বীকৃতি নিয়েই চলছে শিক্ষাক্রম। ভারত সরকারের সায়েন্টিফিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্ড অর্গানাইজেশন (এসআইআরও) এবং ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (ডিএসআইআর)-এর সঙ্গেও টিআইইউটি চুক্তিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার সত্যম রায়চৌধুরীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ ত্রিপুরায় বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে এসে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। ত্রিপুরারই ভূমিপুত্র উপাচার্য ড. রতন কুমার সাহা স্থানীয় ও বহিরাগত বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে সেই চেষ্টাই করে চলেছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইউজিসির নির্দেশিত অ্যান্টি-র্যাগিং নির্দেশনা মেনে টিআইইউটি বহু আগেই অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি প্রণব সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিং কমিটি তো বটেই রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং জেলা অ্যান্টি র্যাগিং কমিটিও তদন্ত করে দেখেছে এধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু টেকনো নলেজ ক্যাম্পাসকে বদনাম করে রাজ্য সরকারকে বিব্রত করতে চলছে অপপ্রচার। সেই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর টিআইইউটি কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের ত্রিপুরাতে বসেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে এডুকেশন হাব তৈরি করতে চাইছেন তাঁরা। রাজ্যে থেকেই তৈরি হয়েছে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ। টিআইইউটি-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতমানের পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে রাজ্যে ছেলেমেয়েরা। সরকারের এই সাফল্যে কোনও কোনও মহল খুশি নয়। তাঁরাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদেরও সামিল করা হচ্ছে সেই অপপ্রচারে। টিআইইউটির সাফ কথা, শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে কোনও আপোষ নয়। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে কিছুতেই রাজ্যের ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত হতে দেওয়া চলবে না। শুরু থেকেই রাজ্যের বহু মানুষ টিআইইউটির ওপর তাঁদের ভরসা রেখেছেন। বহু ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় ভর্তি হয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আগামীদিনে কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে সবধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপপ্রচার। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে টেকনো পরিবার বদ্ধপরিকর। রাজ্য সরকারের কাছেও অনুরোধ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে যারা সচেষ্ট তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দমন করা হোক উগ্র-আঞ্চলিকতাবাদ।টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরা – র পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন ইউনিভার্সিটি’ র রেজিস্টার শিলাদিত্য মুন্সি।

