কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, উত্তর-পূর্বে যেভাবে ক্রমাগত আফস্পা-র আওতাধীন এলাকা সংকুচিত হচ্ছে, তা আদতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ১-২টি রাজ্য বাদ দিলে আগামী বছরের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্পূর্ণ অংশ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ‘আফস্পা’ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১২ জুন।।
উত্তর-পূর্ব ভারতে কি তবে শেষ হতে চলেছে আফস্পা জমানা? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক ঘোষণা কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নতুন দিল্লিতে আসাম ও নাগাল্যান্ডের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় খনিজ তৈল উত্তোলনের জন্য একটি ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সেখানেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা এবং আফস্পা নিয়ে বড় বার্তা দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, উত্তর-পূর্বে যেভাবে ক্রমাগত আফস্পা-র আওতাধীন এলাকা সংকুচিত হচ্ছে, তা আদতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ১-২টি রাজ্য বাদ দিলে আগামী বছরের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্পূর্ণ অংশ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ‘আফস্পা’ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাজ্য সরকারের মধ্যে প্রায় ১২টি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলে হিংসাত্মক ঘটনার গ্রাফ প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।আসাম ও নাগাল্যান্ডের মধ্যে গত তিন দশক ধরে আটকে থাকা সীমান্ত তেল ও খনিজ অনুসন্ধান নিয়ে এই সমঝোতা চুক্তিকে মোদী সরকারের ‘সমবায় ফেডারেলিজম’-এর এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেন শাহ। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির ফলেই এই বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। এখন দেখার, আগামী বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উত্তর-পূর্বের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়।

