#সমীরণ রায়#
                           _______________

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে স্বাগত’ জানানো হবে বলেছেনবাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ফিরে এলে সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান, পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে সরকার কীভাবে দেখচ্ছে, এক সাংবাদিককের এ প্রশ্নে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ওনার আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি, উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা কিন্তু শুরু থেকে একটা কথা, তাকে স্বাগত জানাচ্ছি বলে অনেকে এবার ফটোকার্ড করে বলবেন আমরা ওনাকে খুব স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা সুবিচার, আবার ওই কথাটা আগে একদিন বলেছিলাম, তার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন, তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি, আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চারপাশে পরিচিত মানুষ আছে, তো তারাও মনে করেন না যে ওনার (শেখ হাসিনা) কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোনো চাপ বা কোনো সমস্যা কিছু বলে মনে করি না। উনি যদি আসেন, আমরা তো চাপের প্রশ্ন কেন? আমরা তো চাইছি উনি আসুন, আমরা তো ওনাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি প্রত্যার্পণ করার চেষ্টা করছি। যদি এমন হতো, যেন আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি, ব্যাপারটা তার এইরকম। এবং শুধু অন্তর্বর্তী সরকার না, এই সরকার গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ চেয়েছে, সুতরাং তিনি সেটা বলায় আসলে চাপের কিছু নেই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, উনি আসলে কীভাবে আসবেন প্রক্রিয়াটা ঠিক হয়ে যাবে। আমি জানি না, উনি কীভাবে কী করবেন। উনি ওখানে কীভাবে আছেন এগুলো ওই রাষ্ট্র জানে, উনি যদি আসতে চান ওই রাষ্ট্র আমাদের রাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা বলে ব্যবস্থা করবে। 
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এটি সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *