ডেস্ক রিপোর্টার, ১৫ জুলাই।।
      ২০২০ সালের একটি হাড়হিম করা শিশু হত্যার ঘটনায় চার বছর পর ঐতিহাসিক রায় শোনাল আদালত। নিজের সদ্যোজাত নাতনিকে নির্মমভাবে হত্যা করে জঙ্গলে পুঁতে রাখার অপরাধে কৈলাসহরের এক দম্পতিকে জেল জরিমানা।দণ্ডিতরা হলেন কৈলাসহরের খাওরাবিল এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্র নমঃ এবং তার স্ত্রী আরতি নমঃ।অভিযুক্ত দম্পতির মেয়ের বিয়ে হয়েছিল আসামের করিমগঞ্জ জেলায়। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় পিত্রালয়ে ফিরে আসেন ওই যুবতী। ২০২০ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ ওঠে, সামাজিক লজ্জার ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে ওই রাতেই সদ্যোজাত শিশুটিকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ছড়ার জলে ফেলে দেওয়া হয়।পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে স্থানীয় এক শিশু দেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। অপরাধ ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি জল থেকে মৃতদেহ তুলে বাড়ির পাশের জঙ্গলে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলে মহেন্দ্র ও আরতি।ঘটনা জানাজানি হতেই ইরানি থানার পুলিশ তৎপরতার সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ নমঃ-র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত শুরু করেন তৎকালীন পুলিশ অফিসার কমলাকান্ত জামাতিয়া। তিনি দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট মামলার সরকারি আইনজীবী সুনির্মল দেব জানান মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করে আদালত।এবং দোষী দম্পতির ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত।সেইসাথে জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে দোষীদের।    একই সঙ্গে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় জড়িত সন্দেহে এই মামলায় অপর এক ব্যক্তিকে আদালত সসম্মানে খালাস করে দিয়েছে।
তবে বিলম্ব হলেও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।একইসাথে এই রায় সমাজে এক কড়া বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *