অভিযোগ, এই সময় আশপাশের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে চালক শঙ্কর যুবতী পরিচারিকাকে জাপটে ধরে তার গাড়িতে তুলে নেয়। এবং গাড়ির দরজা আটকিয়ে গ্লাস তুলে নেয়। এরপর গাড়ির মধ্যে মেয়েটির মুখে চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে।


কৈলাসহর ডেস্ক,২৬ জুন।।
          কৈলাসহরে এক চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করলো জেলা ও দায়রা আদালত। এক গৃহ পরিচারিকাকে  ধর্ষণের দায়ে গাড়ি চালক শংকর দাস ওরফে অভিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা দায়রা আদালতের বিচারক পি কুমার। একই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করে। ঊনকোটি জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর সুনির্মল দেব ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কঙ্কন দেবব্রতা  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
       সরকার পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। কৈলাসহরের বাসিন্দা দেব কুমার সিনহার বাড়িতে বিগত ১০-১২ বছর ধরে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন এক যুবতী। ঘটনার দিন গৃহকর্তা দেব কুমার সিনহার ছেলের বিয়ে ছিলো। তারা
বরযাত্রী নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল TR020026 নম্বরের একটি গাড়ি। সন্ধ্যায় গাড়ির চালক শঙ্কর দাস বরযাত্রীদের  কনের বাড়িতে যায়। বিয়ে শেষে পুনরায় বরযাত্রীদের চালক আসে বরের বাড়ির সামনে। বরযাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে বাড়ি চলে যায়। এই সময় দেব কুমার সিনহার পরিচারিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে রাস্তায় থাকা কুকুরকে খাওয়ার দিতে। এটা ছিলো তার রোজের রুটিন।
         অভিযোগ, এই সময় আশপাশের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে চালক শঙ্কর যুবতী পরিচারিকাকে জাপটে ধরে তার গাড়িতে তুলে নেয়। এবং গাড়ির দরজা আটকিয়ে গ্লাস তুলে নেয়। এরপর গাড়ির মধ্যে মেয়েটির মুখে চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার বয়ান অনুযায়ী, ” শঙ্কর তার চারিত্রিক লালসা চরিতার্থ করার পর মেয়েটিকে ভয় দেখায়। এবং বলে দেয়, ঘটনার কথা কাউকে বললে, তাকে খুন করবে।” রাতেই বাড়ির মালিক মেয়েটিকে গাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু বিষয়টি আঁচ করতে পারেন নি। ভয়ে মুখ খুলে নি পরিচারিকাও। তবে মেয়েটি ছিলো মানসিক বিকলাঙ্গও।
      আইনজীবীদের কথায়,  ঘটনার প্রায় ৭-৮ মাস পর এই যুবতীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন বাড়ির সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে তার ডাক্তারি পরীক্ষার করানো হয়। তখন চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন মেয়েটি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। নির্যাতিতার ভাই কৈলাসহর মহিলা থানায় শঙ্কর দাসের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ৪১/২২ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করে করে কৈলাসহর থানার পুলিশ।এই মামলার তদন্ত করেন মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর মৌসুমী দেববর্মা এবং শিবানী দেববর্মা। তদন্তকারী অফিসাররা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।মামলা চলাকালীন সময়ে নির্যাতিতা যুবতী একটি সন্তানের জন্ম দেন। আদালতের নির্দেশে নবজাতক এবং অভিযুক্ত শঙ্কর দাসের ফরেনসিক ব্লাড টেস্ট ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়। ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত হয় যে, যুবতীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের বাবা অভিযুক্ত শঙ্কর দাসই। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর বয়ান ও ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে  বিচারক পি কুমার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে  সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে খুশি নির্যাতিতার পরিবার ও আইনজীবীরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *