ডেস্ক রিপোর্টার,৪ আগস্ট।।
       বর্ষার মরশুমে মারাত্মক চান্দিপুরা ভাইরাসের থাবায় কাঁপছে গুজরাট। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে চান্দিপুরা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের সকলেরই বয়স ১৫ বছরের নিচে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয়টি হল—এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক, টিকা বা বিশেষ ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, চান্দিপুরা মূলত ‘র‍্যাবডোভিরিডি’ পরিবারের সদস্য। এটি প্রধানত বেলেমাছি এবং কিছু প্রজাতির মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সাধারণত গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে এলাকায় বর্ষাকালে এই মাছি বা মশার উপদ্রব বাড়লে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। এটি দ্রুত শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং মস্তিষ্ক পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেয়।
চান্দিপুরা ভাইরাসের প্রধান উপসর্গসমূহ-
প্রচণ্ড জ্বর।শরীরে হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ।তীব্র মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব বা বমি ।দেহে খিঁচুনি ও গায়ে প্রচন্ড ব্যথার অনুভূতি ।চরম ক্লান্তি ও সচেতনতা হ্রাস পাওয়া বা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া ।
যেহেতু চান্দিপুরা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা নেই, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই একমাত্র পথ। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। শিশুদের গায়ের সম্পূর্ণ অংশ ঢেকে রাখা জামাকাপড় পরাতে হবে।ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং বেলেমাছি বা মশার কামড় থেকে বাঁচতে ‘মসকিউটো রিপেলেন্ট’ ব্যবহার করা জরুরি।
শিশুর জ্বর বা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনো রকম দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। লক্ষণভিত্তিক দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।















Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *