ডেস্ক রিপোর্টার, ২৮ আগস্ট।।
আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো ছোট্ট মাছিটিকে ফাঁকি দেওয়া বা হাতের নাগালে পাওয়া কেন এত কঠিন—তা কখনো ভেবে দেখেছেন? এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে মাছির চোখে।
মাছির চোখ সাধারণ মানুষের চোখের মতো নয়।
এদের চোখ মূলত যৌগিক চোখ বা কম্পাউন্ড আইজ।হাজার হাজার অতি ক্ষুদ্র লেন্সের নিখুঁত সমন্বয়ে গঠিত এই চোখ।একটি মাছির চোখের গঠন তৈরি হয় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একক লেন্সের সমন্বয়ে, যেগুলোকে বলা হয় ওমাটিডিয়া। প্রতিটি লেন্স আলাদাভাবে চারপাশের দৃশ্যের এক-একটি ক্ষুদ্র অংশ বা মোজাইক ছবি তৈরি করে। সবকটি পিক্সেলের মতো ছবি একসাথে মিলে মাছির মস্তিষ্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিউ তৈরি হয়।মাছি একই সাথে মাথার সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে—অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি কোণে সবকিছু দেখতে পায়। ফলে পেছন থেকে কেউ আক্রমণ করলেও এরা সহজেই তা টের পেয়ে যায়।তাছাড়া মাছির চোখের বিশেষ গঠনের কারণে সামান্যতম নড়াচড়াও এদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। মানুষের চোখ যেখানে সেকেন্ডে নির্দিষ্ট কিছু ফ্রেম প্রসেস করতে পারে, মাছি সেখানে সবকিছুকে দেখে ধীরগতিতে বা স্লো-মোশনে!প্রকৃতির এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর দৃষ্টিশক্তির বলেই যেকোনো বিপদ থেকে মুহূর্তে পালিয়ে যেতে পারে মাছি।এই অসাধারণ গঠন এবং দ্রুত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কারণেই সাধারণ চোখ বা হাত দিয়ে মাছি ধরা প্রায় অসম্ভব।

