কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই আকস্মিক দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে আসল কারণ কোনটি? আখের ফলন হ্রাস, পরিবেশবান্ধব ইথানল উৎপাদনে অতিরিক্ত আখ পাঠানো, নাকি বাজারে জোগানের কৃত্রিম ঘাটতি?

ডেস্ক রিপোর্টার,২৬ আগস্ট।।
          চিনির দাম আকাশছোঁয়া।উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই গত দুই মাসে কেজিপ্রতি চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। মধ্যবিত্তের রান্নাঘর থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান—সবত্রই এই অগ্নিমূল্যের আঁচ ছড়াতে শুরু করেছে।
     কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই আকস্মিক দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে আসল কারণ কোনটি? আখের ফলন হ্রাস, পরিবেশবান্ধব ইথানল উৎপাদনে অতিরিক্ত আখ পাঠানো, নাকি বাজারে জোগানের কৃত্রিম ঘাটতি?
   সংকটের মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে,মূল চিনি উৎপাদনকারী রাজ্যগুলি যেমন মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক অনিয়মিত ও অসমাপ্ত বর্ষার কারণে আখের ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলন কম হওয়ায় চিনিকলগুলিতে আখ মাড়াইয়ের পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটা নেমে গেছে।দ্বিতীয়তঃ,পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মেশানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য গত কয়েক মরশুমে রেকর্ড পরিমাণ আখের রস ও সিরা ইথানল তৈরির কারখানায় পাঠানো হয়েছে। ফলে সরাসরি চিনি তৈরির জোগান কমেছে।তৃতীয়তঃ, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম চড়া থাকায় এবং দেশে উৎপাদনের পূর্বাভাস কম দেখে পাইকারি বাজারে এক ধরনের জোগান-সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে একাংশের অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কালোবাজারির জল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামনেই দুর্গোৎসব, দেওয়ালি ও বিয়ের মরশুম—যখন দেশে চিনির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এই সময়ে দাম নিয়ন্ত্রণে না আনলে সার্বিক খুচরো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করছে।
ইথানল তৈরির জন্য আখের রসের ব্যবহার সীমিত করে তা সম্পূর্ণ চিনি উৎপাদনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে চিনি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখা।সরকারি গুদাম অর্থাৎ বাফার স্টক থেকে খোলা বাজারে কম দামে চিনি সরবরাহ করা, যাতে পাইকারি ও খুচরো দর নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাজ্যগুলির সহায়তায় মিল ও পাইকারি বিক্রেতাদের মজুত ক্ষমতার সীমা বেঁধে দেওয়া।কালোবাজারি রুখতে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি চালানো। উৎসবের আনন্দ মিষ্টির মিষ্টিতেই পূর্ণতা পায়। এখন দেখার, সরকারের সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মুখে সেই মিষ্টির স্বাদ ধরে রাখতে পারে নাকি চিনির তেতো দামই উৎসবের মেজাজ ফিকে করে দেয়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *