ডেস্ক রিপোর্টার,১৯ সেপ্টেম্বর।।
পাহাড়ের ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে? আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনীতিতে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। রাজ্যের শাসক জোটে ‘উপরে প্রেম, নিচে সংঘাত’-এর ছবিটাই কি ফুটে উঠছে? সম্প্রতি আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিজেপি প্রদেশ কমিটির সাংগঠনিক বৈঠকের পর নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, বিজেপি রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, মন্ত্রী রতন লাল নাথ ও প্রণজিৎ সিংহ রায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উঠে এসেছে নির্বাচনী রণকৌশল।
কিন্তু সব থেকে বেশি জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়ের এক মন্তব্যকে ঘিরে—যেখানে তিনি জানিয়েছেন, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে থাকছে ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই।
একদিকে দিল্লির দরবারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মথা প্রধানের উপস্থিতিতে মেগা ত্রিদলীয় চুক্তি, আর অন্যদিকে পাহাড়ে তৃণমূল স্তরে ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় জোটের সিলমোহর পড়েছিল, সেখানে মাঠ পর্যায়ে লড়াইয়ের এই নতুন সমীকরণ কেন?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’ আসলে জোটের ভেতরের ফাটলকে ঢাকার এক কৌশলগত ঢাকনা মাত্র। বাস্তবে পাহাড়ে নির্বাচনী ময়দান দখলের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে বিজেপি ও তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকেরা একাধিক জায়গায় মুখোমুখি সংঘাতের রূপ নিয়েছে বলে খবর।ব্যালট পেপারে লড়াই শুরুর আগেই ক্ষমতার দখলাদখল নিয়ে শুরু হয়ে গেছে মনস্তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক লড়াই।
মথার মূল রাজনৈতিক ভিত্তি যেখানে পাহাড়, আর বিজেপি যেখানে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া—সেখানে এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ বাস্তবে কতটা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ থাকবে, নাকি তা সরাসরি রাজনৈতিক হিংসা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেবে—তা সময়ের হাতেই তোলা রইল। ভিলেজ কমিটির ভোটের ব্যালট বক্সই বলে দেবে, পাহাড়ের এই রাজনৈতিক খেলায় কে কাকে পেছনে ফেলে শেষ হাসি হাসে।

