ডেস্ক রিপোর্টার,২৯ সেপ্টেম্বর।।

রোজভ্যালি মামলায় নয়া মোড়।মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ রোজভ্যালি মামলার রায় ঘোষণা করে জানায়, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়াই ছিল কমিটির একমাত্র কাজ। এর বাইরে অন্য কোনও আইনি ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সেই নির্দেশ অমান্য করেই কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা ‘চকলেট হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার চুক্তি করেছিল। আইনগতভাবে এই চুক্তি করার কোনও অধিকার ওই সংস্থার ছিল না। তাই সমস্ত অনুমোদনহীন চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।এবার কাজের গতি বাড়াতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বণ্টনের কাজ শেষ করতে হবে। প্রতি মাসে কমিটিকে আদালতে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে।কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এই নির্দেশ ত্রিপুরা রাজ্যের হাজার হাজার প্রতারিত রোজভ্যালি আমানতকারীর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এই নির্দেশ ত্রিপুরা রাজ্যের হাজার হাজার প্রতারিত রোজভ্যালি আমানতকারীর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে।

প্রথমতঃ,রোজভ্যালি গ্রুপের জালিয়াতি শুধু পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিল না; ত্রিপুরা, আসাম ও ওড়িশাতেও বহু মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্ট অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটিকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ৫৫০ কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করার এবং ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সমস্ত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ ফেরানোর যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তার লাভ ত্রিপুরা থেকে আবেদন জানানো বৈধ আমানতকারীরাও পাবেন।

দ্বিতীয়ত,কাজে ঢিলেমি ও অপ্রয়োজনীয় চুক্তির কারণে মামলা ঝুলছিল। এখন থেকে প্রতি মাসে হাইকোর্টে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এর ফলে প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি স্বচ্ছ হবে এবং ত্রিপুরা সহ সব রাজ্যের আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার কাজ দ্রুত এগোবে।

তৃতীয়তঃ,হাইকোর্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-কে এখনও বাজেয়াপ্ত না হওয়া সম্পত্তিগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ত্রিপুরায় রোজভ্যালির জমি, অফিস ভবন বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলির বাজেয়াপ্তকরণ ও নিলাম প্রক্রিয়া এখন আরও দ্রুত হবে।

    চতুর্থত,পূর্বে প্রচারের অভাবে অনেক আমানতকারী ক্ষতিপূরণের দাবির প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে গিয়েছিলেন। হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে যারা এখনও সঠিকভাবে তথ্য বা কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি, তারা নতুন দিকনির্দেশ পাবেন। পঞ্চমত,ইডি ও অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি যৌথভাবে ধাপে ধাপে সরাসরি আমানতকারীদের যাচাইকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরানোর কাজ করছে। হাইকোর্টের এই সময়সীমা নির্ধারণে ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা টাকা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *