এক সময় গোপাল চন্দ্র দাসের সংসারের অবস্থা ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। তেলিয়ামুড়া বাজারের হাট বারে হাজার খানেক টাকার শুটকি অর্থাৎ শুকনো মাছ নিয়ে ডালা সাজিয়ে বসতো গোপাল চন্দ্র দাস। সপ্তাহের বাদবাকি দিন গুলিতে গ্রামে গ্রামে বাই – সাইকেল নিয়ে শুটকি ফেরী করতো।

ডেস্ক রিপোর্টার,২ রা অক্টোবর।।
        রাজ্যের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার নাম করে একজন ঠিকাদারকে মিষ্টি ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন, মোবাইলের অপর প্রান্তের ব্যক্তি? কে এই ব্যক্তি? যে মন্ত্রীর নাম নিলামে তুলে নিগোসিয়েশন ব্যবসার আড়ৎ পেতে বসেছে? আমরা তার পরিচয় খোলসা করবো এই প্রতিবেদনে।

Table of Contents

।গোপাল চন্দ্র দাস।

নাম: গোপাল চন্দ্র দাস
বাড়ি: গোলাবাড়ি
বিধানসভা: কৃষ্ণপুর
মহকুমা: তেলিয়ামুড়া
পেশা: রাজনীতি
দল: ভারতীয় জনতা পার্টি
পদ: সহ – সভাপতি, কৃষ্ণপুর মণ্ডল।

       

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শুটকি ফেরী ওয়ালা হঠাৎ করে এতো অর্থের মালিক হলেন কিভাবে?

      এখন আসা যাক ভারতীয় জনতা পার্টির কৃষ্ণপুর মণ্ডলের দুর্নীতিবাজ সহ – সভাপতি ও নিগো ব্যবসায়ী গোপল চন্দ্র দাসের অর্থের উৎসের কথায়। স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য ,এক সময় গোপাল চন্দ্র দাসের সংসারের অবস্থা ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। তেলিয়ামুড়া বাজারের হাট বারে হাজার খানেক টাকার শুটকি অর্থাৎ শুকনো মাছ নিয়ে ডালা সাজিয়ে বসতো গোপাল চন্দ্র দাস। সপ্তাহের বাদবাকি দিন গুলিতে গ্রামে গ্রামে বাই – সাইকেল নিয়ে শুটকি ফেরী করতো। কাজে কোনো ছোট বড় নেই। একজন শুটকি ফেরিওয়ালা উচ্চাকাঙ্ক্ষী থাকতেই পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শুটকি ফেরী ওয়ালা হঠাৎ করে এতো অর্থের মালিক হলেন কিভাবে?

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি গোপাল চন্দ্র দাসের ভাগ্য ফিরতে থাকে।

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি গোপাল চন্দ্র দাসের ভাগ্য ফিরতে থাকে। কৃষ্ণপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক অতুল দেববর্মার ছায়া সঙ্গী ছিলেন শুটকি ফেরী ওয়ালা গোপাল। প্রাক্তন বিধায়ক অতুলকে সামনে রেখে শুরু করে নিগোসিয়েশন বাণিজ্য। তাদের কারণেই অতুল দেববর্মার রাজনীতিক ক্যারিয়ারই নি:শেষ হয়ে যায়।

অতুল দেববর্মা, প্রাক্তন বিধায়ক।

বিকাশকে সামনে রেখে বিজনও প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলো।

২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণপুর বিধানসভা থেকে বিজেপির টিকিট পান  বিকাশ দেববর্মা। তিনি জয়ী হন। এবং পেয়ে যান মন্ত্রীর চেয়ার। তখন মন্ত্রী বিকাশের ছায়া সঙ্গী ছিলেন  কৃষ্ণপুর  মণ্ডলের অপর দুর্নীতিবাজ নেতা বিজন কর। বিকাশকে সামনে রেখে বিজনও প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলো। তখন নিগোসিয়েশন বাণিজ্যের স্টিয়ারিং ছিল বিজনের হাতে। বিজনের এই আস্ফালন মেনে নিতে পারে নি গোপাল চন্দ্র দাস।


অভিযোগ, “বিজন করের নানান অপরাধ মূলক কাজকর্মের কল্প কাহিনী সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে দিয়েছিলেন গোপাল।

অভিযোগ, “বিজন করের নানান অপরাধ মূলক কাজকর্মের কল্প কাহিনী সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে দিয়েছিলেন গোপাল। একই ভাবে প্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও । স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে মন্ত্রী বিকাশ তার ছায়া সঙ্গী বিজন করকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। আর বিজনের অনুপস্থিতিতে বিকাশ দেববর্মার নিগোজেশন বাণিজ্যের বাজার কুক্ষিগত করেন গোপাল দাস। তারপর আর গোপালকে পেছনে তাকাতে হয়।”
    


                              পর্ব -১

                                     ___________

গোপাল এখন হয়ে উঠেছেন কৃষ্ণপুর বিধানসভার এলিট ক্লাসের নিগোসিয়েশন ব্যবসায়ী। ঠিকাদারদের  কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কাজ দিতে পারছেন না। কিন্তু ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন মোটা অঙ্ক। মুহূর্তে মুহূর্তেই তার রক্ত চক্ষুতে পড়তে হয় স্থানীয় ঠিকাদারদের।


বর্তমানে শুটকির ফেরীওয়ালা গোপাল দাসের অনেক আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে।

বর্তমানে শুটকির ফেরীওয়ালা গোপাল দাসের অনেক আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষ্ণপুর মণ্ডলের বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, গোলা বাড়ি এলাকায় গোপাল তার নিজ বাড়িতে আগের ভাঙ্গা ঘর ফেলে দিয়ে বিশাল বিলাশ বহুল অট্টালিকা তৈরী করেছেন। সেই বাড়িতে আছে বড় মাপের আন্ডার গ্রাউন্ড। সেই আন্ডার গ্রাউন্ডে কি রাখেন গোপাল? এই রহস্যও ফাঁস করবো আমরা ” জনতার মশাল”।

সম্প্রতি গুটকি ফেরী ওয়ালা তথা বিজেপি নেতা গোপাল চন্দ্র দাস তেলিয়ামুড়া শহরে দুই কোটি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেছেন।

সম্প্রতি গুটকি ফেরী ওয়ালা তথা বিজেপি নেতা গোপাল চন্দ্র দাস তেলিয়ামুড়া শহরে দুই কোটি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেছেন। তার রয়েছে পাঁচ – ছয়টি বিলাশ বহুল গাড়ি। তেলিয়ামুড়া বাজারে শুটকি ব্যবসার জন্য ক্রয় করেছেন বিশাল গুদাম। এখন ছোট ভাইকে দিয়ে গোপাল পাইকারি শুটকি ব্যবসা শুরু করেছেন। এখন আর সে ফেরীওয়ালা নয়।


বিজেপির লোকজনের প্রশ্ন, ” শুটকি ওয়ালা গোপাল চন্দ্র দাসের এই অর্থের উৎস কোথায় থেকে এলো? তার বিরুদ্ধে কি রাজ্য পুলিশের ভিজিলেন্স বা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইউি- কোনো তদন্ত করবে?

একজন পাইকারি শুটকি ব্যবসায়ী। এছাড়া আরও প্রচুর সম্পত্তির মালিক গোপাল। বিজেপির লোকজনের প্রশ্ন, ” শুটকি ওয়ালা গোপাল চন্দ্র দাসের এই অর্থের উৎস কোথায় থেকে এলো? তার বিরুদ্ধে কি রাজ্য পুলিশের ভিজিলেন্স বা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইউি- কোনো তদন্ত করবে? আপাতত সেই প্রশ্ন তোলা থাক কুলুঙ্গীতে। দ্বিতীয় পর্বে আমরা ” জনতার মশাল ” গোপাল চন্দ্র দাস সম্পর্কে নিয়ে আসবো আরও হাড়হিম করা তথ্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *