ডেস্ক রিপোর্টার,১৯ অক্টোবর।।
একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ও চরম আর্থিক সঙ্কট, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছে কোটি কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধের দায়— পাকিস্তান বললেই এখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই চিত্রটি। তবে সেই ঋণের জালে জড়ানো দেশই এবার আন্তর্জাতিক আর্থিক মানচিত্রে এক বিরল পদের দায়িত্ব পেল। দীর্ঘ ৭৩ বছর পর আন্তর্জাতিক আর্থিক তহবিল এবং বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপের যৌথ ‘বোর্ড অব গভর্নরস’-এর সভাপতির দায়িত্ব পেতে চলেছে পাকিস্তান।
২০২৭ সালের জন্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের এই যৌথ বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ সামলাবেন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা। ব্যাঙ্ককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের বার্ষিক বৈঠকের সময় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৯৫৩ সালে শেষবার এই পদে বসেছিল পাকিস্তান।
এদিকে এই খবর প্রকাশ পেতেই পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার একে নিজেদের দেশের এক “ঐতিহাসিক সাফল্য” বলে তুলে ধরতে শুরু করেছে। পাক প্রশাসনিক মহলের দাবি, এই পদের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থিক সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ মিলবে।
তবে এই পদ নিয়ে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তেমনি কটাক্ষ ও বাস্তব চিত্রটাও সামনে নিয়ে এসেছেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক অর্থ বিশেষজ্ঞ এবং আইএমএফ-এর প্রাক্তন পরিচালকদের মতে, এই পদটি নীতি নির্ধারণী কোনো ক্ষমতার প্রতীক নয়।এটি ক্ষমতার পদ নয়, কেবলই প্রোটোকল বা সৌজন্যের পদ।আইএমএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই চেয়ারশিপ বা সভাপতি পদটি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এতে ঋণ মকুব বা নীতি পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা থাকে না।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের “Extended Fund Facility” এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিলের ঋণের ওপর নির্ভর করে টিকে রয়েছে।অর্থাৎ যে দেশ নিজেদের অর্থনীতি সামলাতে অন্য দেশের কাছে হাত পাতছে, তারাই বিশ্বের দুই বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার সভাপতিত্ব করবে— বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

