এদিন রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজন বাদ পড়েন। এই হিসাবে এনডিএ-র জয়কে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন কংগ্রেস নেতা।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১লা নভেম্বর।।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ার জোটের মহাসমাবেশ। আর সেই প্রতিবাদের মঞ্চ থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ।
রবিবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ঐতিহাসিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘আমার কথা শুনে রাখুন। আমি যা বলি, পরে তা সত্যিই হয়। নয় কী? আমি দেশের প্রতিটি মানুষকে, প্রত্যেক যুবককে বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন।’ একই সঙ্গে কংগ্রেস সাংসদের সংযোজন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে ছাড়া নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।’ রামলীলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংবিধানকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার কথা ফের মনে করিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘আমরা নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমারকে ঘৃণা করি না। আমরা অহিংসায় বিশ্বাসী। আমার কাছে তাঁরা শত্রু নন। কিন্তু দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর আমার কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আমার ধর্ম। আমরা হিংসায় জড়াব না, কারও ক্ষতি করব না, ঘৃণাও ছড়াব না। কিন্তু দেশের সংবিধানকেও ধ্বংস হতে দেব না।’
এদিন রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজন বাদ পড়েন। এই হিসাবে এনডিএ-র জয়কে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি পরিসংখ্যান দেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘এনডিএ’র সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভোট পার্থক্য ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই হিসাবে ২০২৪-এ এনডিএ তথা বিজেপির, নরেন্দ্র মোদীর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়াকে বেআইনি বলে দাবি করেন রাহুল গান্ধী। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ইভিএম-এ কারচুপি করেও ‘ভোটচুরি’ হয়েছে। এই কাজেই গেরুয়া দলের হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাহুল গান্ধী বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতোই পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনেও অসংখ্য ভোটারকে বাদ দিয়ে, ইভিএমে কারচুপি করে নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। রামলীলা ময়দান থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘অমিত শাহ বলছেন নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাচ্ছেন না। আমি বলতে চাই, তাঁকে কোথাও যেতে দেওয়া হবে না। দেশবাসীর অধিকার রক্ষা করতে সবার আগে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে জেলে পাঠানো হবে। আর তারপর আমরা আপনাদের (নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহ) কাছে আসছি।’ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবি জোরালো করতে নকল সংসদের আয়োজন করেছিলেন বিরোধীরা। রবিবার পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের সুর বাঁধতে গিয়ে সেই ঘটনাকে উল্লেখ করে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। চণ্ডীগড়ে এক সভায় অমিত শাহ বলেন, ‘রাহুলজি ভালোবাসার দোকানের কথা প্রচার করেন। কিন্তু সেখানে উনি ঘৃণা ছাড়া কিছু পাবেন না।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘রাহুল প্রধানমন্ত্রী হতে চান। সে জন্য নকল সংসদের আয়োজন করে নতুন পন্থা অবলম্বন করেছেন। আপনি আপনার নকল সংসদে প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কোনওদিনই পূর্ণ হবে না।’ অমিত শাহের দাবি, ফের ভোটে ভরাডুবি হতে চলেছে কংগ্রেসের। দিল্লির শেষ তিনটি বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস খাতা খুলতে পারেনি। রাজধানীর আগামী তিনটি ভোটেও সেই হালই হবে তাদের।
অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার ঘটনায় কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, আজ রাহুল গান্ধীর উচিত ছিল শিখ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া, কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। রবিবার হরিয়ানার রোহতকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ভিড়তন্ত্র হটাও’ পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই বিরোধীদের উদ্দেশে নিতিন নবীন প্রশ্ন তোলেন, ‘দেশের ১৪০ কোটি মানুষের ওপর আপনাদের (কংগ্রেসের) কোনও আস্থা নেই। তাহলে আপনারা কার ওপর ভরসা করেন? ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীর ওপর! আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, রাহুল গান্ধী: আপনার আসল উদ্দেশ ঠিক কী? কেন আপনি গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছেন?'( এইচটিবি)

