ডেস্ক রিপোর্টার, ২রা নভেম্বর।।

    আলোর উৎসব দীপাবলি। চারদিকে আলোর রোশনাই, ঘর সাজানোর প্রস্তুতি এবং উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই উৎসবের মরশুমেও খুব একটা আশার আলো দেখছেন না আগরতলার মোম প্রস্তুতকারকরা। দীপাবলিকে ঘিরে যে ব্যবসার চাঙ্গা হওয়ার কথা, সেই ব্যবসাতেই এবার মন্দার ছবি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় স্থানীয় মোম প্রস্তুতকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

     একসময় দীপাবলি এলেই মোমবাতির চাহিদা বেড়ে যেত কয়েক গুণ। বাড়ি, দোকানপাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোমবাতির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের পছন্দ। বৈদ্যুতিক আলো, এলইডি লাইট, রঙিন ডেকোরেশন লাইট এবং নানা ধরনের বিকল্প আলোকসজ্জার সামগ্রী বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী মোমবাতির বাজারেও। তাছাড়া পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে উঠেছে ছোট পরিসরে মোম প্রস্তুত করার কারখানা। সব মিলিয়ে বড় ও মাঝারি স্তরের মোম প্রস্তুতকারকদের এখন মাথায় হাত।জানিয়েছেন শহরের জয় নগরের মোমো ব্যবসায়ী সুজন ব্যানার্জি।

    স্থানীয় মোম প্রস্তুতকারকদের কাছে এবারের দীপাবলি তাই প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই হতাশার। উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের মূল্য এবং বাজারে প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলিও তাঁদের ব্যবসার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে জানা যাচ্ছে।

    দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মন ব্যবসায়ী সুজন ব্যানার্জির বক্তব্য, বহু মানুষ ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি ছাড়াই ব্যবসা করছে। তার ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার। এবং যারা বৈধ ভাবে ব্যবসা করছে, তারাও পড়ছে সমস্যায়।

       এখন প্রশ্ন, ঐতিহ্যবাহী এই ক্ষুদ্র শিল্পকে বাঁচাতে উদ্যোগ কোথায়? স্থানীয় মোম প্রস্তুতকারকদের দাবি, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নজরদারি, ক্ষুদ্র শিল্পের সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি মোমবাতির বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।দীপাবলির আলো যেন ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির জীবনে অন্ধকার ডেকে না আনে, সেই প্রত্যাশাই এখন তাঁদের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *