খোয়াই ডেস্ক ৫ নভেম্বর।।
        আসন্ন খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। নির্বাচনের প্রাক্কালে সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী এবং তাঁদের প্রস্তাবকদের উপর একের পর এক হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগকে সামনে রেখে বুধবার খোয়াই সিপিআইএম মহকুমা কমিটির উদ্যোগে মহকুমা শাসকের (SDM) কাছে একটি ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। নির্বাচনী পরিবেশে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রত্যেক প্রার্থী যাতে নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেই দাবিতেই এই ডেপুটেশন বলে জানা যায়।
ডেপুটেশন প্রদান শেষে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খোয়াইয়ের বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই খোয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী এবং তাঁদের প্রস্তাবকদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ৮ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজনের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিধায়ক নির্মল বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, ৮ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। শুধু প্রার্থী বা প্রস্তাবকরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে বিধায়ক কানু পাল ও তাঁর পরিবারের উপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কানু পালের মাকেও মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে কানু পাল এবং তাঁর স্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কানু পাল গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলেও জানান বিধায়ক।
নির্মল বিশ্বাসের বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে যদি প্রার্থী, প্রস্তাবক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয়, তাহলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমান অধিকার রয়েছে। কোনও প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে, আক্রমণ করে কিংবা তাঁর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা কখনোই কাম্য নয়।
এদিন বিধায়ক প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট দাবি জানান, খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রার্থী, তাঁদের প্রস্তাবক এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি যেসব হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, ডেপুটেশন গ্রহণের পর মহকুমা শাসক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস। তবে শুধু আশ্বাসেই যে দায়িত্ব শেষ হয় না, বাস্তবে প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একদিকে মনোনয়নপত্র জমা, অন্যদিকে প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচন যেন কোনওভাবেই হিংসা, ভয়ভীতি কিংবা অশান্তির পরিবেশে পরিচালিত না হয়।
এখন খোয়াইবাসীর নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগগুলির তদন্ত, আক্রান্তদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে আসন্ন পুর পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ।

  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *