ডেস্ক রিপোর্টার, ১১জানুয়ারি।।
              ফের রাজনীতির নতুন সমীকরণ।তিপ্রামথাকে কড়া ভাষায় হুমকি সুদীপ রায় বর্মনের।সুদীপ ঘুরিয়ে বামদেরও হুমকি দিয়েছেন। “কোনো আঞ্চলিক দল হোক বা অন্য কোনো দল ভোটে একা লড়াই করলে তাদের ভোট বাক্স খালি করে দেবেন।” সম্প্রতি করমছড়া বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের এক সভায় দাড়িয়ে একথা বলছেন সুদীপ রায় বর্মন।
    সুদীপ রীতিমতো প্রদ্যুৎ কিশোরের গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি নিয়ে   উপহাস করেন। এবং রাজ্য রাজনীতিতে  বিভিন্ন সময়ে জনজাতি ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে মাথা চারা দেওয়া দলগুলির ব্যর্থ ইতিহাসও তুলে ধরেন।
   কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোরের “থানসা” কে বিদ্রুপ করে বলেন, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি নিয়ে থানসা – থানসা বলে জনজাতিদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছেন প্রদ্যুৎ। ক্ষমতায় আসার আগে জনজাতিদের জন্য তাদের প্রাণ কাদে।কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বোঝা যায় তাদের চরিত্র।তাই জনজাতিদের আবেগে ভাসলে হবে না বলেও মন্তব্য করেন সুদীপ।
       সুদীপ বর্মনের কথায়,১৮ র নির্বাচনে তিপ্রাল্যান্ডের নাম নিয়ে জনজাতিদের নিয়ে রাজনীতি করেছিলো আই পি এফ টি।এখন নতুন এজেন্ডা গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড।কেউই জনজাতিদের সমস্যার সমাধান করতে চাই নি। শুধু রাজনীতি করছে।
          ”  রাজ্যের পাহাড়ে আজও জলের সমস্যা, স্বাস্থ্যর অবস্থা খুব খারাপ।শিক্ষার হাল বেহাল। অন্ন, বস্ত্র  বাসস্থানের জন্য ধুঁকছে জনজাতিরা। আর প্রদ্যুৎ থানসা, থানসা করে রাজনীতি করছেন।
এক সময় রাজ্য রাজনীতির তিপ্রাল্যান্ডের ফেরী ওয়ালা ছিলেন সদ্য প্রয়াত এন সি দেববর্মা এবং মেবার কুমার জমাতিয়া। তারা পেয়েছিলেন ক্ষমতা।কিন্তু তারা কি করেছেন তিপ্রাল্যান্ড নিয়ে?”বক্তা সুদীপ রায় বর্মন।
      রাজনীতিকরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসক বিজেপি ,বিরোধী দল সিপিআইএম পর্যন্ত সমীহ করছেন তিপ্রামথাকে। মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোরকে চটাতে চাইছে না তারা। বরং প্রদ্যুতের ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত নমনীয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট নেতা সরাসরি তিপ্রামথাকে ভোট দেওয়া আবেদন করছে।
         আর শাসক দল বিজেপির কোনো নেতাই মুখ খুলছেন না মথার বিরুদ্ধে।তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেছেন, ২৩- র নির্বাচনে কোনো ফ্যাক্টর হবে না তিপ্রামথা। তিপ্রামথার হেভিওয়েট নেতা অনিমেষ দেববর্মার বাঙালি বিরোধী বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত। এছাড়া বিজেপির কোনো নেতাকে প্রদ্যুৎ কিশোরের বিরুদ্ধে টু – শব্ধ করার সাহস করেন নি। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস তিপ্রাল্যান্ড ইস্যুতে প্রদ্যুৎ কিশোরের বিরুদ্ধে সুদীপ রায় বর্মনের গুগলি বেশ উপভোগ করছে রাজনৈতিক মহল। এটাও বাস্তব বিজেপিকে আটকাতে সুদীপ পাশে চাইছিলেন প্রদ্যুৎকে।কিন্তু প্রদ্যুতের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া না পেয়েই যে বিষোদগার করেছেন সুদীপ রায় বর্মন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *